রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০৪

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংক যে প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এই প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টি দেশের জন্য। যেসব দেশে শরণার্থীরা আছে সেখানে তাদের ‘হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট’ করার প্রস্তাব দিয়েছে। যেহেতু রোহিঙ্গারা শরণার্থী (রিফিউজি) নয়, তাই আমরা এটা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। এই রিপোর্টের সঙ্গে আমাদের চিন্তা-ভাবনার মিল নেই। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে নিজের দেশে ফিরে যাওয়া। আমরা তাদের ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় দিয়েছি।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কটি মতামতের জন্য পাঠায়। এতে বিশ্ব ব্যাংক জানায়, এই রিফিউজি পলিসি রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য দেশে অবস্থিত সব উদ্বাস্তুর জন্য প্রযোজ্য। বিশ্বব্যাংকের এই প্রস্তাব মেনে না নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্কের তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, উদ্বাস্তু  ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা, উদ্বাস্তুরা যে দেশে অবস্থান করছে সেই সমাজে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া অথবা তাদের ফেরত পাঠানো এবং দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে করে নতুন উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমাদের প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার বলেছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। চার বছরে এখনো তা হয়নি। মিয়ানমার কিন্তু কখনো বলেনি তারা নেবে না। রোহিঙ্গারা এখানে ক্ষণস্থায়ী। আমরা এখানে আশ্রয় দিয়েছি। বিশ্ব ব্যাংক যে রিপোর্ট করেছে সেখানে রিফিউজির কথা বলেছে। রোহিঙ্গারা রিফিউজি না। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে ধরে ইউএনএইচসিআর বলেছে, তাদের যেন সব ধরনের নাগরিক সুবিধা; যেমন: বাংলাদেশিদের মতো কাজ করতে পারে, চলাফেরার লিগ্যাল মুভমেন্ট পায়, জমি-জমা কিনতে পারে, নাগরিকের মতো ভোটাধিকার দিতে হবে। দেশের সব ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। রোহিঙ্গারা সেই শর্তের মধ্যে পড়ে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক যে প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে এটা দীর্ঘমেয়াদি। আমরা এটার পক্ষে না। আমরা আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। আমরা নাকচ করার পর ওদের সঙ্গে একটা সমঝোতা হচ্ছে, যেগুলো আমরা অপছন্দ করি, সেগুলো বাদ দিয়ে তারা রাজি হলে চুক্তি করব।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটা বাড়তি চাপ থাকবে বলেও মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত এটা নিয়ে তারা আমাদেরকে একটা চাপে রাখবে। টাকা দিতে ঝামেলা করবে। যদিও তারা আমাদের পয়সা দেয় না। রোহিঙ্গাদের নামে যে টাকা আসে সেটার চেহারাও আমরা দেখি না। আসা অর্থ খরচ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইউএনএইচসিআরসহ এরা সবাই। এরা কীভাবে টাকা খরচ করে সেটাও আমাদের জানায় না।’