অন্তঃসত্ত্বা নারীদের করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা আদালতকে জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা প্রদানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসা দরকার। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে এ অভিমত দেয়।
এদিকে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন, তাদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ—নাইট্যাগ)। নাইট্যাগের সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গত শনিবার আমাদের বৈঠক ছিল, আমরা সেখানে সবাই মিলে একমত হয়েছি। আমরা সুপারিশ করেছি অন্তঃসত্ত্বা, প্রসূতি ও যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তাদের টিকা দেওয়া হোক। এখন বাকিটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে শনিবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, মোহাম্মদ কাউছার, মোজাম্মেল হক ও রাশিদা চৌধুরী।
রিটের শুনানিতে হুমায়ন কবির বলেন, রিট আবেদনকারীদের একজন রাশিদা চৌধুরী অন্তঃসত্ত্বা নারী। তিনি টিকা নিতে পারছেন না। তার মতো অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারীই টিকা নিতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছেন। সম্প্রতি এ রকম বেশ কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা প্রদানের বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করেনি।
এই পর্যায়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখলাম, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি কী সুপারিশ করে সরকার তার অপেক্ষায় রয়েছে। হয়তো এ কারণে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়নি। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী, তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয়। একই সঙ্গে রিট আবেদনটি মুলতবি রাখে আদালত। আদালত বলেছে, আমরা আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ দিচ্ছি না। অ্যাটর্নি জেনারেল যেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে আদালতকে জানান।
