অণুগল্প : হায়ার আর কী

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯:২৯

 

বুঝবি না। একটু দম ধরে তালাবন্ধ গরাদের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দুর্গন্ধময় সিগারেটের বাট, হলুদ সাদা কফ, শুকনো থুথুর দাগ, ধুলোর আস্তরণ, সিগারেটের খালি প্যাকেটের ছেঁড়া টুকুরো পড়ে থাকা মেঝের দিকে তাকিয়ে কাবিল চেয়ারম্যান বলল, গণ্ডমূর্খ! তুই বুঝবি না। গর্ধবের বাচ্চা গর্ধব!

মূর্খ ডাকাতে নখো মিয়ার আক্ষেপ নেই। অসহায় দৃষ্টি মেলে কাবিলের বিমর্ষ মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টের ক্ষত ভুলে গিয়ে কাবিলের জন্য বেশ মায়া হয়। শত হলেও লোকটা চেয়ারম্যান। এমন একজন সম্মানী মানুষকে কেন থানার গরাদে ঢোকাল? বিড়ি টানতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু চেয়ারম্যানের সামনে বিড়ি কীভাবে টানবে? সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান না করলে পরকালে কী জবাব দেবে? নখো মিয়া ভাবে তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে। কিন্তু নেশাটাকে আর ধরে রাখতে পারেনি। কোমরের কোচর থেকে বিড়ি বের করে জ্তালিয়ে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে টান দেয়। কাবিল চেয়ারম্যান প্রথমে ক্ষুব্ধ হলেও পরে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। ভাবে, দুজন আজ একই সমান্তরালে। সে ছোট চোর আর আমি বড়।

বিড়িতে টান দিয়েই নখো মিয়ার মাথায় রক্ত উঠে যায়। কীসের মান্যগণ্যি? সেইদিন বাজার থেকে আদরের মেয়েটার জন্য একটা ‘বাসের’ সাবান চুরি করেছিল বলে এই চেয়ারম্যান থাপ্পড় দিয়েছিল। কান ধরে ওঠবস করিয়েছিল শত মানুষের সামনে। তারপর এই গরাদে ঢোকাল। আজো বের হতে পারেনি।

ধোঁয়ারও নেশা হয়। বিড়িডা একটু দিস তো রে নখো, বলল কাবিল।

নখোর ইচ্ছে হলে দিতে পারে, আবার নাও পারে। আজ দুজনই সমান—নখো মিয়া ভাবে। তবু নখো বিড়িটা দিয়ে বলল, আফনে এইহানে ক্যান?

চেয়ারম্যান বলার আগেই সেন্ট্রি গেটের পাশ থেকে বলল, দুই ট্রাক গম চুরির কেইস।

নখোর অট্টহাসিতে গরাদের দেওয়াল যেন ভেঙে চৌচির হয়ে যায়।

কাবিল চেয়ারম্যান বলল, চুপ মূর্খ, চুপ! তুই বুঝবি না। হায়ার আর কী! আসলে আমরা সবাই চোর। আবার বড় চোর ছোট চোরের বিচার করে। এইডা হলো হায়ার আর কী! বুঝলি?

নখো কিছুই বুঝল না। সে শুধু হো হো করে হাসল! হাসির তোড়ে যেন থানার দেওয়াল ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যায়। নখো মিয়া মনে মনে বলল, দারাগো সাবরা তয়...