প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে মেধাবী কল্যাণ সংস্থা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯:৩৪

মোছা. জেলি খাতুন

 

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো সংগঠনের সংখ্যা খুব বেশি নয়। রাজধানী থেকে দূরত্ব, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখানকার মানুষ প্রতিদিনই সম্মুখীন নানাবিধ সমস্যার। দেশের সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের অবস্থা উন্নয়নে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন। তেমনি একটি সংগঠন মেধাবী কল্যাণ সংস্থা। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী ও  হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মেধাবী কল্যাণ সংস্থা (এমকেএস)। হতদরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করছে সংগঠনটি। ২০১২ সালের ১১ জুলাই যাত্রা শুরু হয় এই সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল আলম জানালেন তাদের দশ বছর পথ চলার গল্প। দারিদ্রের কষাঘাতে নিষ্পেষিত জীবন কাটিয়েছেন নুরুল। শিক্ষাজীবনে নানা প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে একাডেমিক জীবনের পরিসমাপ্তি করলেও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের চূড়ায় আরোহণ করতে পারেননি। নিজের জীবনের কষ্ট উপলব্ধি করে মেধাবীদের স্বপ্ন যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট না হয়, তারা যেন লালিত স্বপ্নের সর্বোচ্চ শিখড়ে পৌঁছতে পারে—সেই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন মেধাবী কল্যাণ সংস্থা। নুরুল আলম ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও পরবর্তীকালে পড়াশোনার জন্য দোকানের কর্মচারী, কখনো রাজমিস্ত্রী বা ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী, আবার কখনো দিনমজুরের কাজও করেছেন। এরপর কুড়িগ্রাম জেলার ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের মাধ্যমে সুযোগ পান শিক্ষকতার। আর জানতে পারেন শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিকূলতা আর ব্যর্থতার গল্প। এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবনার ফলশ্রুতিতে তিনি মন স্থির করেন তাদের জন্য কিছু করার। এগিয়ে আসেন সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া চাচাতো ভাই নাহিদ আকতার স্বপন । তার নিজের টিউশনির টাকায় প্রথম দুজন শিক্ষার্থীকে স্পন্সর করলেন এবং শুরু হলো মেধাবী কল্যাণ সংস্থার যাত্রা। এরপর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের অনুদানের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে ১৩ জন শিক্ষার্থী নির্বাচন করে তাদেরকে ৩০০ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা-উপকরণ প্রদান করা হয়। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও শিক্ষা সফরের আয়োজন করে। করোনা পরিস্থিতিতে সংস্থাটি ইতোমধ্যে  নিজেদের সদস্য, স্পন্সরকারী বিশেষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় লকডাউনের সময় গড়ে প্রতিদিন ৩৫০ জন অসহায় মানুষকে এক বেলার রান্না করা খাবার সরবরাহ করেছে।