নারী নির্যাতন কমিয়ে আনতে না পারা সকলের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আমরাও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এখন দায়িত্ব নিবে এবং আমরা রাষ্ট্রের সহায়ক হিসেবে কাজ করব। সেমিনারে বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বড় চ্যালেঞ্জ যৌন হয়রানি।
গতকাল বুধবার যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিরডাপ মিলনায়তনে সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: সোহরাব হোসেন,শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার। আলোচনায় অংশ নেন নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া করিম,ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ,ইউএনডিপির দেশীয় প্রতিনিধি কায়োকো ওকোসুকা প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপির প্রধান টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার শর্মীলা রসুল।
মো: সোহরাব হোসেন শুধু কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিরোধে আইন না করে সামগ্রিকভাবে যৌন হয়রানি রোধে আইন করার উপর গুরুত্ব দেন। আইন করার ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ এবং সমাজে সব মানুষের সচেতনতার কথা বলেন তিনি।
আফরোজা খান মেয়েদের কর্ম পরিবেশের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, নারী সংসার, সন্তান সামলে কাজ করে বলে তাদের চ্যালেঞ্জ অনেক। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গার্মেন্টস সেক্টরে নারী সুপারভাইজার লেভেল পর্যন্ত যেতে পারে না। পুরুষ সুপারভাইজারের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। তিনি নারী সহকর্মীর সঙ্গে কি আচরণ করতে হবে সে বিষয় শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করার কথা বলেন।
কামরুন নাহার বলেন, আমরা যারা কাজ করতে বের হই, তারা লুকায়িত যৌন হয়রানির শিকার হই। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নের পথে যৌন হয়রানি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তারা ২০০৯ সালের কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনাকে আইনে পরিণত করার ওপর জোর দেন। বর্তমান সময়ে শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি বৃদ্ধির সমালোচনা করেন বক্তারা।
