চাটমোহরে উপার্জনে নামতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২১:২৩

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

করোনার সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চাটমোহরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছে। তারা সম্পৃক্ত হচ্ছে নানা কাজে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে চাটমোহর উপজেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে উপার্জন কমে গেছে। ফলে বাড়িতে বসে থাকা শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীরা বই খাতার পরিবর্তে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে পরিবারের চাপ অথবা স্বইচ্ছায় নানা কাজে যুক্ত হচ্ছে। পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লার রমজান আলীর ছেলে তৌফিক হাসান (৮) চাটমোহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার সমবয়সি একই গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে মিরাজ হোসেন। তারা দুই জন মিলে কাজীপাড়া মহল্লার রাস্তার পাশে দোকান দিয়েছে। বিক্রি করছে চিপস, বিস্কুট, চানাচুর, পান ও সিগারেট। পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যেই তারা এই কাজ করছে। শুধু তৌফিক আর মিরাজই নয়, তাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীই এখন নানা কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে। কেউ মুদি দোকানে কাজ নিয়েছে, কেউ বা আবার অটোভ্যান চালাচ্ছে, কাজ করছে কারখানা বা চায়ের দোকানে, কেউ গার্মেন্টস ও ওয়ার্কশপে। এ সব শিক্ষার্থীর অনেকেই আর স্কুলে ফিরবে না। ঝরে পড়ছে শিক্ষাঙ্গন থেকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী শ্রম বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবারের অসচ্ছলতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ছে শিশুশ্রম। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও এগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে না। উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ভার্চুয়াল ক্লাস করানো হয় না। অধিকাংশ স্কুলে কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া থাকলেও এগুলো অপারেট করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চড়ইকোল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস রঞ্জন বলেন, স্বল্প পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিন প্রতিটি স্কুলে দুটি শ্রেণির দুটি করে ক্লাস চালু করলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হতো, তেমনি ঝরে পড়া রোধ করা যেত।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মগরেব আলী বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়াও অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ কেয়ার করা হবে। শিক্ষকরা নিয়মিত অভিভাবকদের নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন।