ভালোবেসে বিয়ে করায় ঠাঁই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২১:৫০

 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ফাতেমা আক্তার দিপালী (৩৬)। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর থাকতেন বাবার বাড়িতে। পরে ভালোবাসেন সোহেল রানা নামে প্রতিবেশি এক যুবককে। দুই জনে বিয়ে করে সংসার পাতেন। কিন্তু ফাতেমার সেই বিয়ে মেনে নেয়নি তার বাবা-ভাই। উলটো স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন ফাতেমার ভাই। সেই মামলায় দুই মাস জেলও খেটেছেন সোহেল রানা। আর ফাতেমাকে জোরপূর্বক মানসিক রোগী হিসেবে ভর্তি করানো হয় রাজধানীর একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর জেলার সদর থানার গজারিয়াপাড়ায়। ফাতেমার বাবার নাম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

সোহেল রানার অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গেলে ফাতেমার সঙ্গে দেখা মেলেনি, কারণ তার বাবার নিষেধাজ্ঞা। তবে গত ৯ জুলাই ফাতেমা সোহেলের বাড়িতে গিয়ে উঠলে সোহেল ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ফাতেমাকে তার চাচার জিম্মায় দিতে চাইলে ফাতেমা ঐ সময় পুলিশের সামনে বলেন, ‘আমাকে আব্বায় পাগল বইলা পাগলা গারদে রাখবে, আমি জমাজমি কিছুই চাই না, আমি আমার স্বামীর সংসারে থাকতে চাই।’ এ সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপও ইত্তেফাকের কাছে রয়েছে। 

রবিবার মাদকাসক্ত কেন্দ্রে গিয়ে ফাতেমার সঙ্গে দেখা করার জন্য তার বাবার কাছ থেকে মোবাইল ফোনে অনুমতি চাইলেও তিনি তাতে রাজি হননি। এ প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতেও রাজি হননি।

এদিকে ফাতেমা আগের সংসারের চার মেয়ের মধ্যে ১৬ বছর বয়সি বড় মেয়ের এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবার বাড়িতে বাবা ও ভাইদের দ্বারা মাঝেমধ্যেই নির্যাতনের শিকার হতেন তাদের মা ফাতেমা। গত বছর সেপ্টেম্বরে নানা বাড়িতে তার মাকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগও করেন ফাতেমার বড় মেয়ে। সেই অভিযোগে মেয়েটি দাবি করে, এর আগে ২০১৮ সালেও একবার তার মাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করতে তিন মাস অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছিলেন তার মামা-নানা।  

সোহেল রানা বলেন, উভয়ের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বাবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ফাতেমাকে আর তার কাছে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। উলটো তার (সোহেল)  নামে অপহরণ মামলা দেওয়া হয়েছে। ফাতেমা তার বাবা-ভাইয়ের মিথ্যে মামলার পরও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে, সোহেল তাকে অপহরণ করেনি। ফাতেমার পরিবার তখন তাকে অপ্রকৃতস্থ উল্লেখ করে। ফলে আদালত ফাতেমাকে বাবা-ভাইয়ের জিম্মায় দেয় এবং সোহেলকে জেলে পাঠানো হয়। দুই মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে সোহেল জানতে পারেন, ফাতেমার সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। ফাতেমাকে দিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তা জানানো হয় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু সোহেল বলেন, তিনি কোনো উকিল নোটিশ পাননি বা আইনি কোনো কাগজে সই করেননি। বর্তমানে ফাতেমাকে মাদকাসক্ত ও পাগল সাব্যস্ত করে রাখা হয়েছে। তাকে প্রতিনিয়ত নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে ফাতেমার পরিবার।