প্রতি চার বছর পর ওয়ার্ল্ড শেক্সপিয়ার কংগ্রেসে (ডবিউএসসি) আয়োজন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। চলতি বছর ১১তম এই সম্মেলনের আয়োজন করে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। শেক্সপিয়ারের রাজনৈতিক দর্শন বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ‘দি ইভালুয়েশন অব পলিটিক্যাল শেক্সপিয়ার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডায়ানা আনসারী। প্যানেল আলোচনা ছাড়াও সম্মেলনের পর নিবন্ধটি প্রসংশিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ থেকে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে এশিয়ার তিনটি দেশ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। নির্বাচিত এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মুহূর্তগুলো কীভাবে শেক্সপিয়ারের নাটকে এসেছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। জাপানের কেইজাই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মিনামি রিউতার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে মালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কোক সুমেই ‘শেক্সপিয়ার ও মালেয়শিয়ার সাধারণ নির্বাচন’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব আর্টসের অধ্যাপক ড. চোই ইয়াং জু ‘পলিটিক্যাল হ্যামলেটস ইন কোরিয়া ফ্রম দ্য ১৯৮০ টিল ২০০০’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল এবং মালেয়শিয়ার চলতি দশকের রাজনৈতিক পটভূমি বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশের ১৯৮৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক পটভূমি বিশ্লেষণ করেছেন গবেষক ডায়ানা আনসারী। বর্তমানে তিনি মালায়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ের ওপর পিএইচডি করছেন। তার গবেষণায় মূলত শেক্সপিয়ারের তিনটি নাটক নিয়ে বাংলাদেশের বিখ্যাত নাট্যকারদের রচিত নাটকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তঃসাংস্কৃৃতিক নাটক প্রযোজনার ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালে ক্রিস্টোফর স্যান্ডফোর্ড পরিচালিত ‘ম্যাকবেথ’ ও ১৯৯২ সালের গণনায়ক আতাউর রহমানের ‘হ্যামলেট’ (২০১৭), যা ১৫৯৯ সালের ‘জুলিয়াস সিজার’ অবলম্বনে করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৯১ সালে আলী যাকের পরিচালিত ‘দর্পণ’, যা ১৬০০ সালের ‘হ্যামলেট’ অবলম্বনে নির্মিত এবং ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইশরাফিল শাহীন পরিচালিত ‘ম্যাকবেথ’।
