চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিলামে জালিয়াত চক্র তত্পর

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৩

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য নিলামে স্থানীয় কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখায় জালিয়াত চক্রের তত্পরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা বিচলিত হয়ে পড়েছে। তারা বলছে, নিলামে দেশের যে কোনো নাগরিকের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় এই সুবিধা গ্রহণ করে দরপত্রের সঙ্গে জাল পে-অর্ডার প্রদানসহ নানা কৌশলে জালিয়াতি করছে চক্র। এই ধরনের ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও তাদের অভিযোগ।

তবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন অভিযুক্তদের পার পেয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নিলামের পরই দরপত্রদাতাদের পে-অর্ডার ও কাগজপত্র নিলাম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যের নিলামে অংশগ্রহণকারীদের সংগঠন কাস্টমস নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্যদের জালিয়াত চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যের নিলামে টেন্ডার সেল নম্বর-১৩/২০২১, ক্যাটালগ নম্বর-৬০-এ অংশগ্রহণ করে একজন দরপত্রদাতা ওয়ান ব্যাংক চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখা থেকে নেওয়া ১০০ টাকার একটি পে-অর্ডার ঘষামাজা করে ২৬ লাখ টাকা বানিয়ে একটি নিলামযোগ্য পণ্যকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নিলাম মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের কাগজপত্র জমা দেয়। জমা দেওয়া ঘষামাজা করা পে-অর্ডারটির অ্যাকাউন্টের স্থলে অন্য ব্যক্তির নাম লেখা রয়েছে বলেও দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ এই নিলাম দরপত্রদাতাকে উন্মুক্ত নিলাম ঘোষণায় সর্বোচ্চ দরদাতা ঘোষণা করে। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় পে-অর্ডার অ্যাকাউন্টে অন্য ব্যক্তির নাম রেখে কীভাবে আরেক ব্যক্তির নামে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে সেটিও কারো বোধগম্য হচ্ছে না। নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফেরদৌস আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াকুব চৌধুরী সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, এই জালিয়াত চক্রটি ইতিপূর্বেও বিভিন্ন নামে দরপত্রের সঙ্গে জাল পে-অর্ডার দিয়ে নিলামের দরপত্র জমা দেয়। চক্রটি ক্যাটালগ-৭৩ ও নিলাম বিক্রয়-১০/২০২১-এর নিলামেও এক ব্যক্তির নামে একটি পণ্যের নিলাম মূল্য ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়। কিন্তু এই দরদাতার জামানতের ১০ শতাংশ টাকার পে-অর্ডারটি জাল প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নিলাম ডাক বাতিল করে দেন। একইভাবে একই ব্যক্তির নিলাম বিক্রয়-০৮/২০২১, ক্যাটালগ-০৫ দরপত্রটিও জাল পে-অর্ডারের কারণে কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেয় বলে ব্যবসায়ী নেতারা জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার আল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত নিলামে একটি পণ্যের সর্বোচ্চ দরপত্রদাতার কগজপত্র আমরা যাচাই-বাছাই করছি। এরকম নিলামে কারো পে-অর্ডার জাল শনাক্ত হলে তাকে আমরা কালো তালিকাভুক্ত করে থাকি। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির জালিয়াতি সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজাদারি মামলাও দায়ের করা হয়। কোনো পে-অর্ডার সম্পর্কে জালিয়াতি সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পে-অর্ডার বইয়ের ‘মুড়ি’ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়। আমরা অভিযুক্ত দরদাতার পে-অর্ডার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে খোঁজ নেব।

ওয়ান ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রিটন বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, পে-অর্ডার সংক্রান্ত বা নিলামের অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত কাস্টমসের নিলাম শাখার কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্বে করে থাকেন। এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই, আমরা সহযোগিতা করতে পারি কেবল।