জেল-জরিমানার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ

১১ আগস্ট থেকে টিকা কার্ড ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৮

করোনার রাশ টানতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। আগামী ১১ আগস্ট থেকে টিকা গ্রহনের সনদ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। সংক্রামক ব্যাধি (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ সংশোধন করে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পুলিশকে দেয়া হচ্ছে জেল-জরিমানা করার ক্ষমতা। যেভাবে ট্রাফিক পুলিশ যানবাহনে মামলা করে, একইভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচলকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে পুলিশ। সংসদের অধিবেশন চালু না থাকায় অধ্যাদেশ আকারে আইনের সংশোধনী জারি করা হবে বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গতরাতে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত বর্তমানে সিভিল সার্জনকে আইনের প্রয়োগ ক্ষমতা দেওয়া আছে। সিভিল সার্জনের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। আইনের ২৪ ধারার (২) উপধারায় বলা রয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদ্লে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদ্লে, বা উভয় দ্লে দ্লিত হইবেন।’

মন্ত্রী জানান, এখন থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ১৪ হাজার কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। টিকার কোন অভাব নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, জীবন-জীবিকা সচল রাখা ও সব নাগরিককে টিকার আওতায় আনা ও স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

প্রসঙ্গত, গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন ব্যক্তি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৭ জন এবং দুই ডোজ নিয়েছেন এমন ব্যক্তি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৪ জন। দেশে বর্তমান ১৮-ঊর্ধ বয়সের জনসংখ্যা ১১ কোটি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। সবাইকে টিকা নিতে হবে সেই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অফিস-আদালত ১১ আগস্ট থেকে খুলবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতি সচল রাখাও দায়িত্ব। সেজন্য কিছু শিল্পকারখানা খোলা হয়েছে। যানবাহন সব চলবে না। রোটেশন অনুযায়ী চলবে। ট্রেন ১০টার জায়গায় হয়তো পাঁচটা চলবে। খুলবে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। আগামীকাল রাত ১২টায় এই বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হবে। ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গতকাল দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় ২৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৬ জন। এর মধ্যে বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সংক্রামক ব্যাধি নির্মূল আইনের (২) উপধারায় বলা হচ্ছে যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদ্লে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদ্লে, বা উভয় দ্লে দ্লিত হইবেন।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত সুপারিশ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি অনুমোদন করলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ নির্দেশ জারি করবে।

উল্লেখ্য, বৈঠকে উপস্থিত কেউ কেউ বিধিনিষেধের মেয়াদ না বাড়নোর পক্ষে অনেক যুক্তি তুলে ধরেন। কেউ কেউ বলেন, লকডাউন মূলত কার্যকর হচ্ছে না। বরং এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে না।

মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করার সব চেষ্টা শেষে এবার গ্রামে গ্রামে কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরতে চান না। এটা নিশ্চিত করতে এলাকায় এলাকায় জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে। তারা মাস্ক পরতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবেন, মাস্কের প্রয়োজনীয়তা বুঝাবেন। মন্ত্রী বলেন, সবকিছু আইন করে নিশ্চিত হবে না, কিছু বিষয়ে মোটিভেশন দরকার। এজন্য কমিটির কথা ভাবা হয়েছে।