আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন এবং প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত দুইটি আসনের নির্বাচন হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে ভারতের নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে ইভিএম-এর ‘ফার্স্ট লেভেল’ চেকিং। চলবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন ঘোষণা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কমবেশি ৪৫ দিন সময় লাগে। যদিও উপনির্বাচন কবে হতে পারে তার ইঙ্গিত দেয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, ইভিএম পরীক্ষার অর্থ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু। সেক্ষেত্রে ৬ আগস্টের পর থেকে ৪৫ দিন ধরলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে উপনির্বাচন হতে পারে।
প্রার্থীর মৃত্যুতে শামসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের করোনায় মৃত্যু এবং পদত্যাগের কারণে ভবানীপুর, দিনহাটা, খড়দহ, গোসাবা এবং শান্তিপুরে উপনির্বাচন করতে হবে।
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলেও নন্দীগ্রাম আসনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তাকে উপনির্বাচনে জিততে হবে। গত ৫ মে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়েছিলেন। সেই হিসেবে ৫ নভেম্বর ছয় মাস পূর্ণ হবে। অর্থাত্ এই সময়ের মধ্যে উপনির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে পদত্যাগ করে সরকার ভেঙে দিয়ে একদিন পর ফের শপথ নিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস তাই দ্রুত উপনির্বাচন করার জন্য মরিয়া।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে- করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তৃতীয় ঢেউ আসার আগে তাই সুযোগ বুঝে উপনির্বাচন সেরে ফেলা যেতে পারে। নিয়ম বলছে, নভেম্বরের শুরুতে উপনির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলা উচিত। যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশনের পশ্চিমবঙ্গ কার্যালয় বলছে, পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন করার কোনো নির্দেশ এখনো তাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। নির্দেশ পেলেই তারা প্রস্তুতি শুরু করবে।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি অবিলম্বে সাত আসনে নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিজেপি ভয় পাচ্ছে। তাই উপনির্বাচন করাতে চাইছে না। আমরা দুই-তিন দিন অপেক্ষা করার পর রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কাছে ফের আর্জি জানাব।
