শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিত্সকসহ নানা সংকট

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০:৩৫

শেরপুর প্রতিনিধি

২৫০ শয্যার শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য লোকবলের সংকটে চিকিত্সাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে এ হাসপাতালের করুণ চিত্র আরো প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুরে ১০০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালকে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও আর্থিক অনুমোদন না মেলায় ১০০ শয্যার জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ, খাবার দিয়েই চালাতে হচ্ছে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম। এই হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত চিকিত্সক রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। অথচ ১০০ শয্যার জন্যই চিকিত্সকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৩৬ জন। গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিভাগের তিন চিকিত্সকের সবগুলো পদ খালি, ৪ মেডিক্যাল অফিসারের দুই পদই শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ১০টি পদও শূন্য রয়েছে। নার্সের ৮৯টি পদের মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ১৭। এছাড়া আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’য়ের মতো করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিত্সক আট নার্সসহ ১৭ জন স্টাফ আইসোলেশনে রয়েছেন। উপজেলা হাসপাতাল থেকে চার চিকিত্সককে ডেপুটেশনে এনে চালাতে হচ্ছে এ হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা। অথচ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অনুমোদিত চিকিত্সকের পদ সংখ্যা ৫৫ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আউটডোরে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিত্সাসেবা নিতে আসে এবং ইনডোরে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রোগী ভর্তি থাকে। তার মধ্যে বতর্মানে ১০০ বেডের করোনা ইউনিটে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিত্সা নিচ্ছে। চিকিত্সকের অভাবে হাসপাতালের চিকিত্সা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিত্সক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আনওয়ারুর রউফ চিকিত্সক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বারবার অবহিত করা হলেও শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক, টেকনিশিয়ান ও লোকবল এবং নির্দিষ্ট বরাদ্দ পেলে হাসপাতালের সেবার মান আরো বাড়বে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে হাসপাতালের নতুন ভবন এখন কোভিড-১৯ রোগীদের ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১২০ জন কোভিড রোগী ভর্তি রয়েছেন।