পঞ্চগড়ে তীব্র লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০:৫১

ট্রান্সফরমারের এইচটি বুস জ্বলে গেছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) ৩৩ হাজার কেভির একটি ট্রান্সফরমারের এইচটি বুস জ্বলে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে বিদ্যুত্ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এক বার বিদ্যুত্ চলে গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুত্ আসে। এক ঘণ্টা থাকার পর আবারও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে না। তীব্র গরমের মধ্যে দিনে-রাতে এভাবে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় গোটা জেলায় বিদ্যুত্ ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

পঞ্চগড় নেসকো সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুত্ ১০ মেগাওয়াটের দুটি ট্রান্সফরমারে ধারণ করা হয়। এই দুটি ট্রান্সফরমার থেকে গোটা জেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে একটি ট্রান্সফরমারের এইচটি বুস জ্বলে যায়। এর ফলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে।

পঞ্চগড় শহরের আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক হারুন উর রশীদ জানান, বিদ্যুত্ লাইনে নিয়মিত সংস্কারের পরেও বিনা ঝড় বাতাসে বিদ্যুত্ বন্ধ হয়ে যায় সারা দিনে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার নাজমা আখতার জানান, গত দুদিন ধরে ঠিকমত রান্নাবান্না করতে পারছি না। দিনে-রাতে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার পঞ্চগড়ের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের জানান, সামান্য ছোট্ট একটি যন্ত্রের অভাবে পঞ্চগড়ের জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া-আসা এবং লো ভোল্টেজের কারণে পৌরসভার পানির পাম্প সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পানি সরবরাহে অসুবিধা হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান জানান, একটি ট্রান্সফরমার এইচটি বুস যন্ত্র পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একটি ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। রংপুর থেকে ট্রান্সফরমারের এইচটি বুসটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। মেরামত সম্পন্ন হলে বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।