আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মোকা-বিলায় সরকারের গণটিকা দান কার্যক্রম সফল করতে সারা দেশে মানুষের মধ্যে প্রচার চালাতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জীবিকা সচল করতে চলতি বছরই ১০ কোটি মানুষকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য সরকার ঠিক করেছে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর ও দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা সফল ও শোকাবহ আগস্টে দলীয় কর্মসূচি সমন্বয় করতে সভার আয়োজন করা হয়।
সভার সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের জীবন ও জীবিকা সচল রাখতে টিকা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। চলতি বছরের মধ্যে ১০ কোটি লোককে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আমদানি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। সারা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আগামী ৭ থেকে ১৪ আগস্ট গণটিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই টিকা কার্যক্রম সফল করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী টিকা গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি সবাইকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে এই গণটিকা কার্যক্রম চালানো হবে। এই কার্যক্রম সফল করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজে টিকা নিতে হবে, মানুষকে টিকা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালাতে হবে। এটা আমাদের দলের নেত্রীর নির্দেশ।
সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সবার প্রতি আহ্বান, সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। করোনা মোকাবিলায় এবং মানুষের জীবনজীবিকা রক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সুচারুরূপে সম্পন্ন করা হলেও বিএনপি নেতৃবৃন্দ বরাবরের মতো মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা থাকার ‘নতুন তথ্য’ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসছে। ১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাজ্যের আইটিভিতে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাত্কারে মেজর ফারুক বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। কর্নেল ফারুকের স্বাক্ষরে সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধেও জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা উঠে আসে। এছাড়া মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুজের একটি বইয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরা হয়।
ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
