দেশে গত সাত দিনে ১ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজার ৫১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ হাজার ৮১৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাতে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৯১০ জনে। দেশে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ৬৩৮ জনে পৌঁছেছে। সরকারি হিসেবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ১৬ হাজার ১১২ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৭ জন।
আগের দিন মঙ্গলবার সারা দেশে ৫৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, তাতে ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। আর এক দিনে মৃত্যু হয় ২৩৫ জনের। সেই হিসেবে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৫ হাজার ৭১৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট আক্রান্তের ৪১ শতাংশের বেশি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনায় নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, গত সাত দিনে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৩৬টি করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তাতে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৬৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫৩ হাজার ৭৪৯ জন বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫১ হাজার ৯০২টি, আর পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫১৪টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ১০টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ১২ শতাংশ আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৪১ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন আর নারী ১১৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেলেন ১৪ হাজার ৫৪৪ জন আর নারী ৭ হাজার ৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৪১ জনের মধ্যে ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন দুই জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৮২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন আর ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন। অধিদপ্তর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ২৪১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৯৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৬৮ জন, রাজশাহী বিভাগের ১২ জন, খুলনা বিভাগের ৩৬ জন, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের পাঁচ জন করে, রংপুর বিভাগের ১৫ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন সাত জন। ২৪১ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৮৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৭ জন, বাড়িতে ১৮ জন। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে এক জনকে।
