অক্টোবর থেকে আবার ইউপি নির্বাচন শুরু

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৯

আগামী অক্টোবর মাস থেকে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ইউপির ভোট শেষ করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও সবকিছুই করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ইসির নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। গত জুলাই মাসে ইউপি ভোট করার পরিকল্পনা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এদিকে, আগামী ৪ অথবা ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঐ নির্বাচনের পুনঃ তারিখ ঘোষণা করবে কমিশন। ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, আগামী অক্টোবর মাসকে নির্বাচনের জন্য উপযোগী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। করোনাকালীন নির্বাচন করা সম্ভব নয় মর্মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। তারাও সে অনুযায়ী বর্তমান চেয়ারম্যানদেরকেই পরবর্তী ভোট না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে বলেছেন। তাই পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বললে আমরা নির্বাচন করে ফেলব। আমাদের সব প্রস্তুতিই নেওয়া আছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, শোকের মাস আগস্টে সাধারণত কোনো নির্বাচন আয়োজন করে না কমিশন। সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে হবে কমিশনের। ইসি সচিবালয় থেকে নির্বাচন উপযোগী ইউপির তালিকা প্রস্তুত করে কমিশন সভায় প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে। শিগিগরই কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রথম ধাপে স্থগিত ১৬৭টি ইউপির নির্বাচনের সঙ্গে নতুন করে আরো দ্বিতীয় ধাপের ৫০০ ইউপির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

গত ৩রা মার্চ প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপির তপশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী ভোট হওয়ার কথা ছিল ১১ এপ্রিল। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। পরবর্তীকালে গত ৩রা জুন স্থগিত ইউপির ভোটের তারিখ গত ২১ জুন পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোভিড পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। গত ২১ জুন ২০৪টি ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ইউপির সংখ্যা ৪ হাজার ৪৮৩টি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নবম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

৪ অথবা ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট-৩ আসনে ভোট :দুই দফা পিছিয়ে যাওয়ায় সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করতে হবে। গত ২৬ জুলাই ভোটের দুই দিন আগে নির্বাচনের ওপর ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। ফলে নির্বাচন কমিশন ঐদিন বিকালেই ভোট স্থগিত করে। কমিশন আপাতত পরিকল্পনা করেছে ৪ অথবা ৫ সেপ্টেম্বর ভোট করার। কারণ, সংবিধানে দেওয়া সব সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ৬ সেপ্টেম্বর।

সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গত ১১ মার্চ মৃত্যুবরণ করলে ১৫ মার্চ আসন শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। শূন্য আসনে সংবিধান অনুযায়ী ভোট করতে হয়, আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। এছাড়া দৈব-দুর্বিপাক থাকলে আরো ৯০ দিন সময় নিতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। করোনার কারণে সেই ৯০ দিন সময়ও নেন সিইসি। সব মিলিয়ে ১৮০ দিন সময় পায় ইসি। আসন শূন্যের তারিখ থেকে ১৮০ দিন পূর্ণ হয় ৬ সেপ্টেম্বর। অর্থাত্ আগস্টে ভোট না করলে ইসির হাতে সময় কেবল সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিন।

গত ১৪ জুলাই নির্বাচনটি সম্পন্ন করার জন্য ভোটের তারিখ ছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টি-জাপার প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যু দিবস হওয়ায় ঐ দিন ভোটগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানায় দলটি। একই সঙ্গে তারা ভোট পেছানোর আবেদন করলে, কমিশন যৌক্তিকতা মেনে ২৮ জুলাই নির্বাচনের নতুন তারিখ দেয়। কিন্তু করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে ভোট না করার আদেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়। ফলে উচ্চ আদালত শুনানি করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভোটের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।