বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিত্সা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা চিকিত্সায় ৩০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু কিছু রোগী সুস্থ হলেও আইসিইউ দখলে রাখার চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে তিনটি আইসিইউ শয্যা দখলমুক্ত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালী রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিত্সক ও নার্সদের মারধরের চেষ্টা করেন ও নানা হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় তীব্র জনবলসংকট ও চিকিত্সাসামগ্রীর অপ্রতুলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিত্তবানসহ দেশপ্রেমিকদের সহায়তা চেয়েছেন বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় সিলিন্ডারের সংকট নেই দাবি করে শেবাচিম পরিচালক বলেন, ‘এক রোগীর জন্য জোরপূর্বক বাড়তি সিলিন্ডার নেওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। আরো ৭০০ সিলিন্ডার চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। তবে তীব্র জনবলসংকটে থাকা এ হাসপাতালের জন্য ৫০০র মতো দেশপ্রেমিক স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। সবার কাছে আমার আকূল আবেদন, যারা হূদয়বান দেশপ্রেমিক রয়েছেন তাদের মাধ্যমে যদি আমরা স্বেচ্ছাসেবক পাই, তাহলে করোনা ইউনিটে চিকিত্সায় কোনো সমস্যা থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডের ৩০০ শয্যার বিপরীতে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৩৪৯ জন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় এই ওয়ার্ডে মারা গেছেন ১৫ জন রোগী। দিন দিন পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে।
সভায় বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, শেবাচিমে এখন আর রোগী রাখার জায়গা নেই। পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কায় ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে (সদর) বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া করোনা উপসর্গ ও আক্রান্ত গর্ভবতী এবং দুগ্ধদায়ী মায়েদের জন্য নগরীর কালীবাড়ি রোডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার বিশেষায়িত করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় শেবাচিম হাসপাতালে আরো ৫০০ চিকিত্সক দেওয়ার আকুতি জানিয়েছে বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা সিভিল সার্জন বলেন, হাসপাতালে ৬৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অনুদান দিয়েছে সমাজের বিত্তবানরা। তবে আমাদের এসব ক্যানোলার দরকার নেই। আমাদের এখন দরকার সি প্যাপ এ প্যাপ মেশিন। কারণ এ মেশিনে অক্সিজেন খরচ অনেক কম।
