চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমআরআই মেশিনটি গত দেড় বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন অচল থাকায় মেশিনের অন্যান্য যন্ত্রাংশও নষ্ট হতে চলেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে হাসপাতালের রোগীদের বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, মেশিনটি মেরামতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিক বার বলা হলেও কোনো সাড়া মিলছে না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২০১৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমআরআই মেশিনটি স্থাপন করা হয়। গত তিন-চার বছর মেশিনটির মাধ্যমে রোগীরা সেবা পেয়েছে। এরপর থেকে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে থাকে। চায়না কোম্পানির তৈরি মেশিনটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের ওয়ারেন্টি ছিল। এ সময়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে মেরামত করে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। জানা যায়, এ ধরনের একটি এমআরআই মেশিনের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন অচল থাকায় মেশিনটির অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামে সরকারিভাবে চমেক হাসপাতালে একটি এমআরআই মেশিন রয়েছে। এটিতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। সিরিয়াল পেতে ১০-১২ দিন অপেক্ষা করতে হয়। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একটি এমআরআই করতে ৯-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর সরকারি হাসপাতালে খরচ পড়ে ৩ হাজার টাকা।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি হাসপাতালের জন্য ভারী মেশিনগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়। মেশিন কেনা থেকে চালু করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এছাড়া মেশিনের ওয়ারেন্টি সময় পর্যন্ত চালু রাখা এবং মেশিনের কোনো সমস্যা হলে মেরামত করে দেওয়ার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। অভিযোগ রয়েছে মেশিন চালু হওয়ার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে তারা নানা টালবাহানা করে।
চিকিত্সকরা জানান, সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সা সরঞ্জাম মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। ঢাকার বাইরে তাদের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় নেই। ফলে ভারী মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তাদের বেসরকারি সার্ভিস সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। মাসের পর মাস মেরামতের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘এমআরআই মেশিনটি নিম্ন মানের পুরাতন মেশিন বসানো হয়েছিল। এই মেশিনের কোনো যন্ত্রাংশ বর্তমানে বাজারে নেই। এই মেশিনের ফিল্মও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার মেশিনটি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মামলাও রয়েছে।’
