ওরা গাড়িতে ‘জরুরি মোবাইল টাওয়ারের কাজে নিয়োজিত’ স্টিকার লাগিয়ে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আনছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছে ‘ফিউচারটেক ২০ টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়পত্র রয়েছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসার পথে বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশির সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঐ ভুয়া পরিচয়পত্র দেখায়। কিন্তু র্যাবের কাছে খবর ছিল যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদকদ্রব্য ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার হতে বিশেষ কৌশলে (পাকস্থলির ভেতর) বহন করে প্রাইভেট কারযোগে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন পৌরসভাস্থ কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রাইভেট কারটি চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করলে র্যাব এর গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ি থেকে ইমন হোসেন (২০), আজিজুল ইসলাম (২২), শাহিন মণ্ডল (৩০), মামুনুর রশিদ (২৫), হাসিবুর রহমান ইয়াছিন (১৮) ও ইমরান (৩১) নামে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল র্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এরা ইয়াবা পেটের ভেতরে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃতদের গাড়ি ও শরীর তল্লাশি করে ইয়াবা মেলেনি। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে এক্সরে করা হলে প্রত্যেকের পাকস্থলিতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে এদের পেট থেকে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবাগুলো বের করা হয়। পলিথিন দিয়ে প্যাঁচানো বেশ কয়েকটি প্যাকেট পেট থেকে বের করা হয়। প্যাকেটগুলোতে মোট ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ছিল।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পেশায় শ্রমজীবী। তারা তিন মাস ধরে পেটের ভেতর করে ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসেন। গ্রেফতার হওয়ার আগে তারা ১০-১২টি ইয়াবার চালান রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় পাচার করেছে বলে স্বীকার করেছে।
