রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আর কতদিন বহন করবে :নাসিম

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪১

জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বদলীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা।  এ নিয়ে সংসদে একদিন বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ইউরোপের ধনী দেশগুলো একজন শরণার্থী নিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে; কিন্তু আর কতদিন এই বোঝা বাংলাদেশ বহন করবে। তাই সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করে ভারত, চীন, মিয়ানমার ও জাতিসংঘে গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব করেন তারা।

গতকাল মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ ইস্যুতে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত্র করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। আলোচনায় আরো অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। এখন দেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে; কিন্তু আর কতদিন এই বোঝা বহন করব। বিশ্বের অনেকেই আশ্বাস দিয়েছে; কিন্তু সমাধান হয়নি। যেহেতু সংসদ চলছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরে একটি দিন নির্ধারণ করুন, যেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের করণীয় কি, সেটি নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার। এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন রোহিঙ্গা ফিরে গেছে। প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটি করে সব দল থেকে প্রতিনিধি নিয়ে ভারত, চীন ও মিয়ানমারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এ প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের সর্বদলীয় কমিটি করে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে   কথা বলার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দেশে ও জাতিসংঘ সফর করে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করা হোক। একই ইস্যুতে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি করেছিলাম, সেটি কতটুকু যথাযথ হয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এই সমস্যা চলতে পারে না। আমি মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীরও এ ইস্যুতে নাসিমের প্রস্তাব সমর্থন করে সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনার দাবি জানান এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।