যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আঁচ পশুপাখিরা আগেই পায়। কোনো দুর্যোগের আগে তারা ভয় পায়। বদলে যায় তাদের আচরণ।
২০১১ সালে কন্টামারায় ভূমিকম্পের ২৩ দিন আগে থেকেই সেই অঞ্চলের বন্যপ্রাণীদের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা গিয়েছিল। ভূমিকম্পের ঠিক ৮ দিন আগে পশুদের নড়াচড়া কমে গিয়েছিল এবং অনেক পশু সেই অঞ্চল ত্যাগ করেছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ভূমিকম্পের আগে বাতাসে পটিটিভ আয়নের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা প্রাণীরা বুঝতে পারে। তাই তারা অস্বাভাবিক আচরণ করে।
২০০৯ সালে ইতালির শহর অ্যাকুইলার একটি পুকুর থেকে শত শত ব্যাঙ উঠে এসেছিল রাস্তায়। এই ঘটনার একদিন পরই সেখানে আঘাত হেনেছিল ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন, ভূমিকম্পের আগে মাটির তলদেশ থেকে একরকম গ্যাস বের হতে থাকে। এর ফলে পুকুরে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে আর এজন্যই জলজ প্রাণীরা স্থলে উঠে আসে। অনেক গভীর পানির মাছকেও ভূমিকম্পের আগে উঠে আসতে দেখা যায় উপরিভাগে।
১৯৭৫ সালে চীনের হাইচেং শহরে অনেক সাপকে দেখা গিয়েছিল তাদের গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। এছাড়া গোটা শহর পায়রাশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার এক মাসের মাথায় চীনের এই অঞ্চলে আঘাত হানে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। সাপ এবং পায়রা ভূপৃষ্ঠের অতি সামান্য কম্পনও টের পায়, যার কারণে এমনটি ঘটেছিল।
ভূমিকম্পের আগাম সংকেত পায় কুকুর ও পাখি। ভূমিকম্পের ঠিক আগমুহূর্তে মাটির নিচ থেকে একরকম তরঙ্গ বের হয়। এর শব্দ ২০ হার্টজের কম হওয়ায় মানুষ তা শুনতে পায় না। কিন্তু কুকুর ও পাখি সে শব্দ শুনতে পায় এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পশুপাখির আচরণ প্রত্যক্ষ করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গত ২০ বছরে তিনটি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়েছিল এ পদ্ধতিতে।
মো. সৈয়দুর রহমান
