‘বিশেষ দিনের কথা চিন্তা করে রবীন্দ্রসংগীত চর্চা করি না’

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৩১

নিবিড়ভাবে রবীন্দ্রসংগীত চর্চা করা শিল্পী এদেশে হাতেগোনা। সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ। যিনি মনে-প্রাণে রবীন্দ্রসংগীতকে ধারণ করে চলেছেন। রবীন্দ্র চর্চাকে এগিয়ে নিচ্ছেন সামনে থেকে। রবীন্দ্র মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের ব্যস্ততাসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

রবীন্দ্র মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনার কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

এখন তো করোনার কারণে সেভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের অংশ নিচ্ছি। পাশাপাশি কয়েকটি অনলাইন প্লাটফর্মের অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষ দিবস ছাড়া রবীন্দ্র বা নজরুল সংগীতের অনুষ্ঠান খুব কমই আয়োজিত হয়। এতে নতুনরা এই গানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন না?

আসলে আমরা যারা রবীন্দ্রসংগীত চর্চা করি তারা বিশেষ কোনো দিনের কথা ভেবে চর্চা করি না। আমাদের কাছে রবীন্দ্রসংগীত চর্চার জন্য সব দিনই সমান। আমাদের মনের ভেতর রবীন্দ্রনাথকে লালন করেই তার গার নিয়ে বেঁচে আছি। আর করোনার কারণে তো সব ক্ষেত্রেই মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। আমার মনে হয় যারা মন-প্রাণ দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসেন, তার গানকে নিজের ভেতর ধারণ করেন তারা কখনোই আগ্রহ হারাবে না।

অনেকেই বলেন রবীন্দ্রসংগীতের রক্ষণশীলতা কমাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী মন্তব্য করবেন?

আমি গানের বিষয়ে বরাবরই উদার। গানের কথা-সুর ঠিক রেখে কেউ গাইলে কোনো সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি বিকৃত করে গায় তাহলে তো রবীন্দ্রসংগীত তার স্বকীয়তা হারাবে। যা একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে কখনোই কারো কাম্য নয়।

দেশে নারী রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পুরুষ শিল্পী তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?

দেখুন, একজন পুরুষকে তো নানাদিক ম্যানেজ করে গান গাইতে হয়। কারণ তার ওপর পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো কিন্তু নির্ভর করে। আমার মতো কেউ গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস কেউ করতে পারবে না বা সেটা দেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভবও না। তাছাড়া সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা বৈষম্য রয়েছে। মেয়েদের গ্লামার রয়েছে। অনেক চ্যানেল তাদের ডেকে নিয়ে বসিয়ে দেয়। আমার মনে হয় সুযোগ পেলে এই প্রশ্ন আর কখনো কেউ করবে না!

নতুনদের মাঝে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে আগ্রহ কেমন দেখতে পাচ্ছেন?

এখন তো অনেক তরুণই রবীন্দ্রসংগীতে আসছেন এবং খুব ভালো করছেন। এ ক্ষেত্রে দু-একজনের কথা বলা যাবে না, অনেকেই আছেন। তাদের এই আগ্রহ সত্যি আনন্দের। তবে নতুন শিল্পী তৈরি করতে বিশেষ ভূমিকা গণমাধ্যমগুলো রাখতে পারে। আপনারা যদি নতুনদের কাজকে প্রমোট করেন তাহলে তাদের কাজ মানুষের কাছে বেশি পৌঁছাবে। পাশাপাশি ভালো গান তৈরিতে আরো অনুপ্রাণিত হবে।

সংগীতের সোলালি যুগ থেকে এখন অবধি নিয়মিত কাজ করছেন। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

করোনাকাল বাদ দিলে সংগীতের অবস্থা অনেক ভালো বলা চলে। কোথাও তো আমি খারাপ দেখি না। আগে এক মাধ্যমে গান প্রকাশ হতো, এখন মাধ্যম বদলেছে। এটা নতুন কিছু না, যুগে যুগেই এই মাধ্যম পরিবর্তন হয়েছে। মাধ্যম বদল হলেও গান কিন্তু মানুষ শুনছেই। আমার মনে হয় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরো ভালো অবস্থানে যাবে সংগীত ইন্ডাস্ট্রি। অনেক নতুন শিল্পী উঠে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।