৩৭৫ আমদানিকারকের শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩

বন্দর থেকে শুল্কায়ন শেষে পণ্য খালাস করে নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র নিরীক্ষা করে ৩৭৫টি  প্রতিষ্ঠানের শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট দপ্তর। শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে নথিপত্র পরীক্ষা করে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম পায়। এতে প্রাথমিকভাবে ৭৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের দায় স্বীকার করে ফাঁকির অর্থ পরিশোধও করেছে। এসব ফাঁকি উদ্ঘাটন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের কমিশনার ড. মইনুল খান (বর্তমানে বদলি হয়ে ঢাকা পশ্চিমের ভ্যাট কমিশনার) এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে পাঠিয়েছেন।  এনবিআর সূত্র জানায়, আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল    পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাতে ৩৭৫টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। আমদানি হওয়া এসব পণ্যের বেশিরভাগই খালাস হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মাধ্যমে। এর বাইরে রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি, ঢাকা কাস্টম হাউজ, মংলা কাস্টম হাউজের মাধ্যমেও খালাস হয়েছে। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ঢাকা কেন্দ্রিক। আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত মূল্য ও ওই পণ্যের পরিচিতি নম্বর (এইচএস কোড) অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য পর্যালোচনা করে ওই ফাঁকি বের হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব আমদানি চালানের প্রকৃত ফাঁকির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে। খালাস হয়ে যাওয়ায় তার প্রকৃত অঙ্ক বের করা কার্যত অসম্ভব।

এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে জরিমানাসহ শুল্ক-করের পরিমাণ আরো বেশি হবে। সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ফাঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুল্ক অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে। শুল্কায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এভাবে কম মূল্য দেখিয়ে পণ্য শুল্কায়ন কিংবা খালাস করা সম্ভব নয়। ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অডিটে ৩৭৫টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধের প্রমাণ পেয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক অফিসকে বলেছি। ইতিমধ্যে  বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করেছে। তিনি বলেন, এসব অপরাধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জরিমানা কিংবা আইনি ব্যবস্থা না থাকলে এটি কমানো যাবে না। বর্তমানে এ ধরনের ফাঁকির ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়া রাজস্বের সর্বোচ্চ ১০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা যায়।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান এক সভায় বলেছেন, অপকৌশলের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য খালাস হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এতে কী পরিমাণ রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে, কিংবা এ প্রক্রিয়ায় আরো কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা বের করার চেষ্টা করছি।