কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে প্রবহমান একটি সরকারি খাল (ডাকাতিয়া নদীর শাখা মহেন্দ্র খাল) অবৈধভাবে দখল করে এক ব্যক্তি দুই তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানির প্রবাহ বন্ধ করে এভাবে সরকারি খালের ওপর পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে খাল জুড়ে ঐ মার্কেটের একতলার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। অবিলম্বে ঐ অবৈধ স্থাপনা ভেঙে অপসারণের মাধ্যমে প্রাচীন এ খালের পানিপ্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ বাজার এলাকা হয়ে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত মহেন্দ্র খাল দখল করে ঐ খালের ওপর একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন স্থানীয় নেয়ামতপুর গ্রামের হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া খোকন নামের এক ব্যবসায়ী। এরই মধ্যে এই মার্কেটে ডায়না ফার্নিচার মার্ট নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন পেশার অন্তত ১৮ জন বাসিন্দা বলেন, ‘খালের ওপর দুই তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা ভবন তো এক দিনে তৈরি হয়নি। এলাকার পানি প্রবাহের সরকারি খালটি এভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হলেও প্রশাসনের কাউকে বাধা দিতে দেখিনি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমানে খালটির ওপর একতলা ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে।’
এদিকে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐ বাজারের খাল দখল করে অনেকেই মার্কেট তৈরি করেছে। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রেখেই ব্যক্তিগত খরচে ব্রিজ তৈরি করেছি। এর একটি অংশে পাকা ইমারত করা হয়েছে।’ মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহেল রানা ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রথমে আমাদের ধারণা ছিল, সেখানে কেউ হয়তো বাড়িতে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর কালভার্ট তৈরি করছে। কিন্তু পরে স্থানীয় হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যানসহ লোকজনের মাধ্যমে জেনেছি, হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া খোকন নামের এক ব্যক্তি সরকারি খালটি দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণ করছেন। তাই ঐ ব্যক্তিকে প্রথমে মৌখিক এবং পরে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো নির্মাণাধীন স্থাপনা সরিয়ে নেননি। তাই শিগিগরই উচ্ছেদ মামলা করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মাধ্যমে সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া খালের কোনো জায়গা অবৈধভাবে কারো দখলে থেকে থাকলে তাও উচ্ছেদ করা হবে।’
