কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে দাকোপে বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে ৯৬.৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। এ অবস্থায় তারা পুনরায় বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে চলতি মৌসুমে আমন চাষ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৯ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ১২০ হেক্টর ও উফশী ১৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর। এজন্য ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অসংখ্য কৃষকের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের দাবি, বৃষ্টিতে ৯৬৫ হেক্টর বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ৯৬.৫ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
উপজেলার ঝড়খালী এলাকার কৃষক শ্যামল রায় বলেন, তিনি ছয় বিঘা জমি আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন। ধানের চারা কিছুটা বড়ও হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি নিম্ন চাপের প্রভাবে কয়েক দিনের অতি বৃষ্টিতে তার বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি পুনরায় বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গুনারী এলাকার কৃষক বরুন মণ্ডল জানান, তার বীজতলা ডুবে থাকার দুই দিন পর পানি নেমে গেছে। কিন্তু চারা নেতিয়ে পড়েছে এবং মারা যাচ্ছে। তার আশপাশেও একই অবস্থা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, এখনো পর্যন্ত অনেক বীজতলা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তবে যেসব বীজতলার চারা নেতিয়ে রয়েছে সেগুলো পরামর্শ মতো পরিচর্যা করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমবে। তাছাড়া ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ ধান দেওয়ার জন্য।
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, শরণখোলায় বাজারে আমনের বীজ ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমনের বীজ সংকটে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আমনের বীজতলা বিনষ্ট হওয়ায় নতুন করে বীজ ধানের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ধানখেত চার-পাঁচ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে থাকায় তার দেড় একর জমির চারা বিনষ্ট হয়েছে। একই কথা বলেন চালিতাবুনিয়া গ্রামের কৃষক মনির তালুকদার, বগী গ্রামের দেলোয়ার মুন্সি, শাহ আলম মুন্সি, খুড়িয়াখালী গ্রামের শাহজাহান মোল্লা, ফুল মিয়া এবং মঠেরপাড় গ্রামের আ. রব খলিফা।
শরণখোলা উপজেলা সদরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ও বীজ ডিলার স্বপন কুমার নাগ বলেন, তাদের কাছে এখন কোনো আমন বীজ ধান নেই। বিএডিসি গুদামে বীজ ধান না থাকায় তারা আনতে পারছেন না। শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলায় আমনের বীজতলা অর্ধেক বিনষ্ট হয়েছে। আউশ ২৫ ভাগ বিনষ্ট হয়েছে। এ বছর শরণখোলায় ৭৩০ হেক্টর জমিতে আমন বিআর ৫২ এবং ২৩৭ হেক্টর জমিতে আউশের বীজতলা করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, বাজারে বীজ ধান না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বিশেষ উপায়ে কৃষকদের বীজ ধান দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ঐ কর্মকর্তা জানান।
