জীবন থেমে থাকবে কি?

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১:৪৪

একদিকে করোনার থাবা, অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও বর্ষার পানি। তার পরেও জীবন থেমে থাকবে কি? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

 

মহামারি করোনা ভাইরাসের নিরবচ্ছিন্ন তাণ্ডবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যখন প্রায় বিপর্যস্ত তখনই ডেঙ্গুর আক্রমণ জীবনের ন্যূনতম গতিকেও স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাছাড়া, বেশ কিছু জেলার মানুষের জীবনকে আরো বেসামাল করে দিয়েছে বন্যা। এমন ত্রিমুখী দুর্যোগের কবল থেকে জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন এবং বিত্তশালীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা একান্ত আবশ্যক।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।    

অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জোড়া শত্রুর বিরতিহীন আক্রমণের সঙ্গে বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে বর্তমান সময়টা চরম নাজুক। জীবনের সুরক্ষা ও আর্থিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণের আপ্রাণ চেষ্টায় সাধারণ মানুষের প্রাণ অনেকটাই ওষ্ঠাগত। এমন দুঃসময়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হলেও আর্থিক দুরবস্থা লাঘবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি ও সামর্থ্যবানদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাওসুমা নওশীন

সদর, বরিশাল।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের জীবনের চাকা ঘোরে। কোভিড-১৯-এর অপ্রতিরোধ্য ভয়াবহ তাণ্ডবে পুরো দেশের জনজীবনই এখন কার্যত নিষ্প্রাণ। একই সঙ্গে ডেঙ্গু, বন্যা ও জলাবদ্ধতার অভিশাপ জীবনের চাকাকে কিনারা থেকে খাদে ঠেলে দিয়েছে। জীবন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে গভীর উত্কণ্ঠা ও মানসিক অবসাদের পাশাপাশি চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জীবনযুদ্ধকে সর্বোচ্চ কঠিন অবস্থায় নিয়ে গেছে।

আবু ফারুক

বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান।

করোনা ভাইরাসের চলমান সাংঘাতিক ধরন, প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর ভীতিপ্রদ প্রাদুর্ভাব ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষাজনিত পানিবৃদ্ধি জনজীবনে সংকটের তীব্রতা ছড়িয়ে স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক পরিসরে আমাদেরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এক অভূতপূর্ব অভিঘাতের। এমনতর অভাবনীয় ত্রিমুখী সংকট-সংকোচনে উপান্তিক-প্রান্তিক নির্বিশেষে বহুজনের জীবন নিদারুণ সংকটাপন্ন ও বিপর্যস্ত। তবুও, বিদ্যমান এ স্থবিরতা নিশ্চিত সাময়িক। গতিময়তাই জীবনের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। সাক্ষাত্ নিরাশা ও সমূহ প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে সম্মুখপানে ধাবিত হওয়ার মধ্যেই মনুষ্যজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। বিদ্যমান সর্বনেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে সম্মিলিত কর্মযোগ ও পাস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ মনোবৃত্তির পরিপালন অতীব জরুরি ।

ওয়ারেছ আলী খান

 রংপুর।

জীবনের গতি সচল রাখতে গিয়ে দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করাটা প্রকৃতিগতভাবে স্বাভাবিক। করোনা ভাইরাসের লাগামহীন সংক্রমণের সঙ্গে যোগ হয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আবার টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্যায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সবাইকে সর্বাবস্থায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এফ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যানের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ জীবনের অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলেছে। এর সঙ্গে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে বন্যা। এমতাবস্থায় জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অন্য কোনো বিকল্প নেই।

আবুল কাশেম

বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। করোনা ও ডেঙ্গু নিয়ে কোনো ভয় কিংবা কুসংস্কার নয়, বরং যথাযথ সচেতনতা ও সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ মেনে চললেই আবার সুন্দর শান্ত পৃথিবী ফিরে পাওয়া সম্ভব।

মো. তানভীর হোসেন

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই চরম দুর্ভোগ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কাজে যোগ দিয়েছেন শিল্প কারখানার শ্রমিকরা।  এ হলো জীবনযুদ্ধ। অন্যদিকে রয়েছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। সব কিছুকেই মেনে নিয়েই মানুষ চলছে জীবন জীবিকার কাজে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আরো কঠিন কঠোর হতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি মানুষকেও অনেক বেশি সচেতনত হতে হবে।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ

ফেনী

জন্ম থেকে মৃত্যু, জীবন বহমান তা যত বাধাই আসুক, বিগত দিনে অনেক প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা টিকে আছি এবং থাকব, তবে জীবন চালাতে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। আপত্কালীন সমস্যায় সরকারি নির্দেশনা মানাসহ আমরা সবাই সচেতন থাকব—এই প্রত্যাশা করি।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, সেকশন-৬, ঢাকা। 

করোনা, ডেঙ্গু, বন্যার মতো দুযোর্গে জীবন থেমে থাকবে না। যতই আসুক বাধা-বিপত্তি দুর্যোগ মোকাবিলা করেই আমাদের জীবনের চাকা চালাতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

বৈশ্বিক করোনা কিংবা ডেঙ্গুকে ভয় করলে চলবে না। সব কিছুর জন্য মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে। সবাইকে মনে প্রাণে প্রস্তুতি নিতে হবে অটুটভাবে।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চরভৈরবী

করোনা, ডেঙ্গু আর বন্যায় আজ আর মানুষের মনে তেমন কোনো উত্কণ্ঠা আর ভীতি নেই। মৃত্যু আসবে এটাই চিরসত্য। কাজেই এসব থেকে বাঁচতে হলে এক মাত্র স্বাস্থবিধি মানা আর সচেতনতা অবলম্বন করা একান্ত দরকার।

মো. হাফিজুল  ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

রাজশাহী-৬২০২

করোনা মহামারি আকার ধারণ করার পর থেকেই দেশে একের পর এক লকডাউন চলছে। লকডাউনে সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থা চারদিকে। তারপরও জীবনের চাকা থেমে নেই। অনেক মৃত্যুর মিছিলেও মানুষ একটু বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে।

এস এম হূদয় রহমান

দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

আমাদের দেশে একের পর এক লকডাউনের মানুষের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়েছে; কিন্তু করোনা সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু জ্বর মানুষের মধ্যে নতুন আতঙ্ক ও ভীতি সঞ্চার করেছে। তাছাড়া চলছে ভরা বর্ষাকাল। এতকিছুর পরও সবার আগে জীবনকে বাঁচাতে হবে। জীবনই যদি না থাকে, তাহলে জীবিকা দিয়ে কী হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জীবন জীবিকা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করতেই সরকার ধীরে ধীরে জীবন-জীবিকা সচল করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে গণটিকার নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং অচিরেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

কঠোর ‘লকডাউন’ হলে হয়তো জীবন বাঁচে, আবার ঢিলেঢালা লকডাউনে জীবিকা বাঁচে। এ দুইয়ের মধ্যে সতর্ক ভারসাম্য রক্ষা করার বড় চ্যালেঞ্জ এখন আমাদের সামনে। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে; কাজটা সহজ নয় মোটেই। তাইতো লকডাউন, কড়া লকডাউন, কঠোর লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন ইত্যাদি নানা কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু কোনোটাই তেমন কার্যকর হচ্ছে না! এদিকে এরই মধ্যে ডেঙ্গু ও বর্ষার জলাবদ্ধতা আমাদের আরো ভাবিত করে তুলেছে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মহামারি সময়ে দেশে চলছে কঠোর লকডাউন, তার ওপর আবার মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো ডেঙ্গু প্রকোপ বেড়েই চলছে। এছাড়া এখন বর্ষাকাল, কষ্টে জীবনযাপন করছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারকে আরো সুদৃষ্টি দিতে হবে এই গরিব অসহায় মানুষের দিকে।

মো. মিনহাজ শেখ

কাউনিয়া, রংপুর।

জীবন থেমে থাকবে না, থাকেও না, যতই লকডাউন দেওয়া হোক। কারণ, মানুষ কাজ চায়। টাকা উপার্জন করতে চায়।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

করোনা মহামারি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক গতিকে একেবারেই থামিয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে  যোগ হয়েছে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব। প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগ দেখা দেয় এবং অনেক জায়গায় শুরু হয় জলাবদ্ধতা। করোনা মহামারি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ডেঙ্গু রোগ এবং জলাবদ্ধতা একেবারেই মনুষ্য সৃষ্ট সমস্যা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশদূষণই ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এর ফলে প্রতিবছরই সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ প্রয়োজন। আর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা গ্রাস করেছে সমগ্র পৃথিবীকে। তবুও জীবন থেমে নেই। মানুষের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা আছেই। তাই ঘরে থেকে বের হতে হচ্ছে।

মো. সাইফুল ইসলাম (রয়েল)

বগুড়া

জীবন-জীবিকার তাগিদে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। কবে, কখন, এই মহামারি থামবে, কেউ বলতে পারে না। একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই যদি আমাদের ক্ষমা করেন, তাহলেই সম্ভব।

মো. মেজবাইউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

মহামারি করোনার পাশাপাশি রাজধানীতে প্রতিদিন ডেঙ্গুর সংখ্যা বাড়ছে।  করোনার মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। করোনায় মানুষকে টিকা দেওয়ার বিকল্প নেই। নিজেদের সচেতনতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান

নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা

অব্যাহত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে চলছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব—এ যেন সত্যিই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তবু মানুষ চলছে। জীবনের কাছে মানুষের চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তাই তো বৈশ্বিক করোনাতেও মানুষের জীবন চলছে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা।

লকডাউন কিংবা বিধিনিষেধ আরোপ করেও কোনো লাভ হয়নি বা হচ্ছে না। জীবন ও জীবিকার কারণে মানুষ ঘরে থেকে বের হচ্ছে। মহামারি করোনার কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে বা ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই পরিবারপরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে এবং যাচ্ছে। তবুও তো জীবন থেমে নেই।

পারভীন সুলতানা বিউটি

রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ

একদিকে বৈশ্বিক করোনা মহামারি, অন্য দিকে চলছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ। স্বাস্থ্যবিধিকে উপেক্ষা করেই বের হচ্ছে মানুষ তার প্রয়োজনে। যদিও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অবশ্যই দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআরের গবেষকরা। তাই প্রত্যেককে ভ্যাকসিনের বিষয়ে খুব মনোযোগী হতে হবে।

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা