সচিব ও তার সহকর্মী পরিচয়ে প্রতারণা করত তারা। এই প্রতারক চক্রটির সদস্যদের এক জন আইটি সচিব, এক জন সংসদ সচিবালয়ের আইটি সচিবের পিএ ও আরেকজন সাজত জমির দালাল। এরপর তারা জমি কেনাবেচার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা। গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ফটকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মো. মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে একটি চক্র প্রতারণা করে আসছে। সাধারণত এই চক্রটিকে বলা হয় রয়েল চিট এজেন্সি বা আরসিটি। বুধবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। এরা হলো ইদ্রিস খান, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম ও জাহিদ শিকদার।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়। কদমতলী থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আশরাফ হোসেনের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার তরিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দলের লিডার মো. শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব আলম বলেন, এই চক্রের প্রধান ইদ্রিসের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। তাদের তিন জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রতারকরা প্রথমে জমি বেচাকেনার জন্য টার্গেট করা ব্যক্তির কাছে গিয়ে নানাভাবে তথাকথিত সচিবের নাম ভাঙিয়ে প্রলুব্ধ করত। তাদের ফাঁদে পা দিলেই তারা হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা। মাহবুব আলম বলেন, এভাবে তারা প্রতারণার কৌশল তৈরি করে। এমনভাবে কৌশল তৈরি করে যাতে লোভে পড়ে মানুষ তাদের টাকা দিয়ে দেয়। এই রকম শতাধিক ঘটনা তারা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের এই যুগ্ম-কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলাম মাদারীপুরের কালকিনি থানার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং গ্রেফতারকৃত শাহাবুদ্দিনের আপন বড় ভাই। শহিদুলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের হোতা তিনি। চক্রটির বিরুদ্ধে ঢাকার একাধিক থানায় মামলা রয়েছে।
