ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ১

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ২২:০৯

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় তরিকুল ইসলাম খোকন হত্যার ঘটনায় রুজুকৃত মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তার নাম-মো. সাব্বির। থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাতে তরিকুলকে কে বা কারা হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য মৃতদেহে আগুন দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় তরিকুলের ভাইয়ের অভিযোগের  পরিপ্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত ৩১ জুলাই কামরাঙ্গীরচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে কামাঙ্গীরচর থানা পুলিশ।

কামাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উক্ত মামলা তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় কামাঙ্গীরচর থানার রসুলপুর এলাকায় অভিযান করে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময়ে তরিকুলের ব্যবহূত দুইটি মোবাইল ফোনসেট, রক্তমাখা লুঙ্গি ও শার্ট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত সাব্বির ভুক্তভোগীর পূর্ব পরিচিত ও প্রায়ই সে তার বাসায় আসা-যাওয়া করত। তারই এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সমকামিতার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩০ জুলাই রাতে সাব্বির ভুক্তভোগীর বাসায় রাতযাপন করার জন্য যায় এবং উভয় এক বিছানায় ঘুমায়। রাতে তরিকুল কামলালসা চরিতার্থ করার জন্য সাব্বিরের সঙ্গে জোরাজুরি করে। এতে গ্রেফতারকৃত সাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে রান্না ঘর হতে শিলপাটা এনে ভুক্তভোগীর কপাল, নাক ও মুখে আঘাত করে। ফলে তার শরীর হতে রক্ত বের হতে থাকে। এরপর ব্লেড দিয়ে পেট কেটে তরিকুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে সাব্বির।

অফিসার ইনচার্জ বলেন, ভুক্তভোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বাসার ড্রয়ার থেকে কাপড়, চোপড় ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বের করে মরদেহের ওপর রাখে। পরে ম্যাচ দিয়ে ভিকটিমের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। যাওয়ার সময়ে  গ্রেফতারকৃত সাব্বির ভুক্তভোগীর দুইটি মোবাইল ফোনসেট ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত সাব্বির ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসেট ৪ হাজার টাকায় বিক্রয় করে সিলেট চলে যায়। গ্রেফতারকৃতকে আদালতে প্রেরণ করলে ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।