বাংলাদেশ সফরে এসে রীতিমতো নাজেহাল এখন অস্ট্রেলিয়া। সুরক্ষা বলয়ে দিন কাটালেও মাঠের ক্রিকেটে স্বাগতিকদের কাছে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে ম্যাথু ওয়েডের দল। টানা দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তাদের সামনে এখন সিরিজ হারের চোখ রাঙানি। আজ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে। সিরিজ হার ঠেকাতে, সিরিজে ফিরতে হলে আজ জিততেই হবে।
দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় আজ খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। এজন্য ব্যাটিংয়ে বড় উন্নতি হবে বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। তিনি বলেছেন, ‘দুই দলের বোলাররাই দারুণ বোলিং করছে। আমাদের বোলিং আক্রমণের পারফরম্যান্সেও আমরা খুশি। বোলিং কোনো সমস্যাই নয়। শুধু ব্যাটিংয়ে আরো ভালো করতে হবে আমাদের। এক ম্যাচে আমাদের টপঅর্ডার ব্যর্থ হয়েছে, আরেক ম্যাচে নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা। আশা করি, পরের ম্যাচে আমরা ঠিকঠাক করতে পারব।’
অ্যাস্টন অ্যাগারের মতে, খেলাটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে হবে। পাওয়ার প্লে যেমনই হোক ঝুঁকিহীন ব্যাটিং করে যেতে হবে।
সিরিজ হার ঠেকানোর মিশনে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ানদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মুস্তাফিজের বোলিং। মিরপুরের উইকেটে বাঁহাতি এ পেসারের কাটার- স্লোয়ার যেন ধাঁধা হয়ে ধরা দিচ্ছে তাদের কাছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। জশ ফিলিপে, ম্যাথু ওয়েডকে বোল্ড করেছেন এবং লাফিয়ে ওঠা বলে হতভম্ব হয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন অ্যাস্টন অ্যাগার।
আইপিএলের দল হায়দরাবাদে মুস্তাফিজের সঙ্গেই খেলেছেন মোসেস হেনরিকস। কিন্তু মিরপুরে তার বোলিংয়ের জবাব নেই হেনরিকসের কাছেও। তার মতে, ২৪ বলের ২৩টিই স্লোয়ার করেন বাংলাদেশের এ তরুণ পেসার। আইপিএলে হয়তো অর্ধেক স্লোয়ার করেন। তকাল ভার্চুয়াল সংবাদ অ্যাস্টন অ্যাগার বিমুগ্ধ হয়ে বলেছেন, মুস্তাফিজের স্কিল অবিশ্বাস্য।
স্বদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অ্যাগার বলেছেন, ‘সে খুবই কঠিন এক বোলার, সত্যিই দারুণ। তার স্লোয়ার বল যদি কাছ থেকে দেখেন, কবজি আর আঙুলের ব্যবহারে অবিশ্বাস্য স্কিল, অবিশ্বাস্য স্কিল। এই স্লোয়ার অসাধারণ, কারণ এটা খুব ধীরগতির নয় এবং অনেক কিছু হয়।’
দ্বিতীয় ম্যাচে মুস্তাফিজের বলে নিজের আউটের উদাহরণ টেনে অ্যাগার বলেছেন, ‘কালকে (বুধবার) যেমন আমি একটা ডেলিভারি পেয়েছি, যেটা লাফিয়ে উঠেছে। এরকম লাফাতে পারে, নিচু হতে পারে, অনেক স্পিন করতে পারে, নাও করতে পারে। এটা সত্যিই বৈচিত্র্যময়। বেশির ভাগ ডেলিভারিই সে স্লোয়ার করে।’
