জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর দক্ষিণপাঁকা ফেরি ঘাটে বজ্রপাতে নিহত ১৭ জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলায় নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। নারায়ণপুর গ্রামে বর আল মামুনের নানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার নানা তবজুল ইসলামসহ তার পরিবারের সাতজন নিহত হওয়ায় বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। তবজুল ইসলামের বাড়ির সামনেই সাতজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। লাশ চুরির ভয়ে কবরগুলি রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।
বাকি লাশগুলোরও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ বাড়িতে অবস্থানরত নিহত তবজুলের নাতনি সেলিনা খাতুন জানান, এঘটনায় তার স্বামী সইবুর, তার পিতা শরিফুল ইসলাম পাতু, নানা-নানি, মামা-মামি ও খালাসহ সাতজন এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন। এখন তার আশ্রয়স্থল না থাকায় তিনি পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করছেন। অপরদিকে একই ইউনিয়নের ডাইলপাড়া গ্রামে বর আল মামুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও চলছে শোকের মাতম। একই অবস্থা তার নববধূ সমী বেগমেরও। গত বুধবার নৌকাযোগে সদর উপজেলার নারায়ণপুর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা এলাকায় যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ৫জন মহিলাসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এদের সকলের বাড়ি সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
বজ্রপাতে নিহতেরা হলেন: বরের বাবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জনতার হাট গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪২), দুলাভাই সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোঠাগ্রামের মো. সোহবুল (৩৫), ফুফু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জৈটকাপাড়া গ্রামের বেলিয়ারা বেগম (৩৪), ফুফা টিপু সুলতান (৪০), নানা নারায়ণপুর ইউনিয়নের মহারাজনগর ডাইলপাড়া গ্রামের মো. তবজুল (৭০), নানি জমিলা বেগম (৬০), খালা ল্যাতন বেগম (৪৫), খালাতো ভাই মো. বাবলু (২২), মামা মো. সাইদুল (৪০), মামি টকিয়ারা বেগম (৩০), মামাতো ভাই মো. বাবু (১৫) ও বরের চাচাতো ভাই সূর্য্যনারায়ণপুর গ্রামের ধুলু মিয়ার ছেলে মো. সজিব (২২), সূর্য্যনারায়ণপুর গ্রামের মো. কালুর ছেলে মো. আলম (৪৫), মো. মোস্তফার ছেলে মো. পাতু (৪০), মো. সাহালাল ওরফে বাবুর স্ত্রী মোসা. মৌসুমী (২৫), সুন্দরপুর গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে আসিকুল ইসলাম (২৪) ও ফেরিঘাটের লোক শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাকা গ্রামের মৃত সহবুলের ছেলে মো. রফিকুল (৬০)।
