মো. কামরুল হাসান
প্রভাষক
শামছুল হুদা খাঁন কলেজ
ঝিনাইদহ
শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা (পর্ব ৮)
গত পর্বের পর ...
‘অ’-এর উচ্চারণের নিয়ম
‘অ’-এর উচ্চারণের তিনটি ভাগ রয়েছে ।
১. আদ্য-অ (শব্দের শুরুতে)
২. মধ্য-অ (শব্দের মাঝে)
৩. অন্ত্য-অ (শব্দের শেষে)
আদ্য-অ
সূত্র ১৪:শব্দের প্রথমে যদি অ থাকে (স্বাধীন কিংবা ব্যঞ্জনে যুক্ত) তার পরে ক্ষ্ম (ক্ষ্ + ম) থাকে, তাহলে আগের অ সাধারণত ও-কারান্ত উচ্চারিত হয় না।
শব্দগুলোর উচ্চারণগুলো লক্ষ করি :
বানান উচ্চারণ
লক্ষ্মণ লকে্খান্
যক্ষ্মা জক্খা
সূত্র ১৫:১৯৩৬ সালে নিয়ম করা হলো রেফ-এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণের (একই ব্যঞ্জনের) দ্বিত্ব হবে না। অর্থাত্, ‘পর্য্যন্ত’, ‘পর্য্যায়’,
‘পর্য্যালোচলা’ বানানগুলো যথাক্রমে ‘পর্যন্ত’, ‘পর্যায়’, ‘পর্যালোচনা’ হয়ে গেল। য-ফলার কারণে আদ্য অ-এর উচ্চারণ ও-কারান্ত হতো। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে বানানে য-ফলা বর্জন করা হলেও উচ্চারণের ক্ষেত্রে অ না হয়ে ও-কারান্ত রয়ে গেছে।
শব্দগুলোর উচ্চারণগুলো লক্ষ করি :
বানান উচ্চারণ
পর্যন্ত পোরেজানেতা
পর্যায় পোর্জায়্্
পর্যালোচনা পোর্জালোচনা
পর্যবেক্ষণ পোরেজাবেক্্খন্্
পর্যটন পোরেজাটন্
চর্যাপদ চোর্জাপদ্
মর্যাদা মোর্্জাদা
মধ্য-অ
প্রাসঙ্গিক সূত্র:
যে-সকল কারণে শব্দের আদ্য-অ ও-কারান্ত উচ্চারিত হয়, তার সব সূত্রই ‘মধ্য-অ’-এর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
শব্দগুলোর উচ্চারণগুলো লক্ষ করি :
বানান উচ্চারণ
সুমতি শুমোতি
কুমতি কুমোতি
প্রগতি প্রোগোতি
জননী জনোনি
সুতনু শুতোনু
সুমধুর শুমোধুর্্
চলবে ...
সূত্র :
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের প্রমিত উচ্চারণ শিক্ষা
বন্ধুরা, আরও জানতে চোখ রাখো ফেসবুকের ‘বাংলা বানানের নিয়মকানুন’ গ্রুপে এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার অনুশীলন পাতায়।
