গত বুধবারের পর
কমলা বললেন-এটি অবশ্যই সত্যেন বসুর বিনয়।
হ্যাঁ, তিনি খুব বিনয়ী ও নিরহংকারী মানুষ ছিলেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার জন্যও তিনি অনেক কাজ করেছেন। তিনি মনে করতেন বিজ্ঞানচর্চা অল্প কজনের ঘরে বন্দি হয়ে থাকলে দেশ ও দশের কোনও উন্নতি হয় না। বিজ্ঞানের জনপ্রিয়তা বাড়াতেই হবে এবং এই লক্ষেই তিনি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ। বিজ্ঞান সহজে বোঝার জন্য তিনি পত্রিকা প্রকাশ করলেন ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’। তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো ‘যারা বলেন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হয় না, তাঁরা হয় বাংলা জানেন না, না হয় বিজ্ঞান বোঝেন না।’
সঠিক কথা, বললেন কমলা। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হবে না কেন!
বিন্দু বলল-সত্যেন বসুকে নিয়ে মজার ঘটনা বলো বাবা।
নীলকান্তবাবু বললেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু এতবড় বিজ্ঞানী হয়েও খুব ভুলোমনা মানুষ ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় একদিন তাঁর মেয়ে বায়না ধরল, সিনেমা দেখতে নিয়ে যেতে হবে। বসু তখন এক জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে টেবিলে বসে আছেন। মেয়ে তো নাছোড়বান্দা। কী আর করবেন, মেয়ের সঙ্গে মুকুল সিনেমায় গেলেন ঘোড়ার গাড়িতে করে। সিনেমা হলে গিয়ে দেখলেন মানিব্যাগ বাসায় ফেলে এসেছেন।
এই ভুল তো সবারই হয়, তানভীর আঙ্কেলও তো একদিন বাসায় মানিব্যাগ ফেলে গিয়েছিলেন। বিন্দু বলল।
এরপর আর কী হলো শোন না, বললেন নীলকান্তবাবু। বাসায় ফিরে টেবিল থেকে মানিব্যাগ নিতে গিয়ে বোস দেখলেন গাণিতিক সমস্যাটা তো পড়েই রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে টেবিলে বসে পড়লেন। এদিকে গাড়ির ড্রাইভার বাইরে অপেক্ষমান আর মেয়ে সিনেমা হলে। ঘন্টা দুয়েক পরেও যখন তিনি বের হলেন না, তখন গাড়োয়ান ভিতরে প্রবেশ করে দেখল তিনি টেবিলে বসে লিখছেন। চমকে উঠে বোস বললেন-কী ব্যাপার? গাড়োয়ান ভাড়া চাইতে তিনি বললেন-বড় ভুল হয়ে গেছে।
সবাই হেসে ফেলল। বিন্দু বলল-দেখেছ, সত্যেন বসু মেয়েদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন, তুমি তো আমাদের নিয়ে সিনেমা হলে যাওই না।
কমলা বললেন-এখন কি আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে হয়। আচ্ছা, এখন সবাই ওঠো। পড়তে বসে যাও, আমি তোমাদের নাস্তা দিচ্ছি।
