হংকং : ‘সেইফ হেভেনের’ প্রস্তাব দিলেন বাইডেন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২০:১৭

বিবিসি ও রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত হংকংয়ের বাসিন্দাদের স্বল্পকালীন সময়ের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা ‘সেইফ হেভেন’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, চীন হংকংয়ের ‘স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করায়’ শহরটি থেকে আসা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১৮ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবে। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের হাজার হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবে। গত বছর চীন হংকংয়ের ওপর নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারও শহরটির বাসিন্দাদের যুক্তরাজ্যে বসবাস ও পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বাইডেন বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থেই’ হংকংয়ের বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শহরটিতে এখনো যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে চীন সেগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা সীমিত করে আনছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্বে দমনপীড়ন চালাচ্ছে।’ হংকংয়ে নিরাপত্তা আইনে সরকারবিরোধী রাজনীতিক ও গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনার দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি।

এদিকে ওয়াশিংটনে চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিউ বাইডেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সত্যকে উপেক্ষা ও বিকৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মোটাদাগে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী হংকংয়ের এক গবেষক ম্যাগি শাম অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে হংকংয়ের অনেক শিক্ষার্থীই শহরটি ছেড়ে এসেছিল, ফেরা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত এবং বাইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ত্যাগ করেনি।’

বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের প্রায় ১ লাখ বাসিন্দা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক হংকং ডেমোক্রেসি কাউন্সিলের স্যামুয়েল চু। এই সংগঠনটি হংকংয়ের বাসিন্দাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেইফ হেভেনের’ ঘোষণা দিতে বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের বাসিন্দাদের সংখ্যা বেশ বড়। আমার মনে হয়, বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে এদের বড় অংশেরই উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের সব বাসিন্দা এই ‘সেইফ হেভেন’ সুবিধা পাবেন না। যারা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত, তারা এর বাইরে থাকবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।