বিবিসি ও রয়টার্স
ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলের সশস্ত্র বাহিনীগুলো ঐতিহ্যবাহী লালিবেলা শহরের দখল নিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শহরটি পাথর কেটে বানানো কয়েক শ বছরের পুরোনো গির্জার জন্য বিখ্যাত। ইথিওপিয়ার লাখ লাখ অর্থোডক্স খ্রিষ্টানের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত লালিবেলার ঐ গির্জাগুলো ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যেও তালিকাভুক্ত।
তিগ্রাই বাহিনীর সঙ্গে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের লড়াই এখন তিগ্রাই ছাড়িয়ে পাশের দুই অঞ্চল আমহারা ও আফারেও ছড়িয়ে পড়েছে। লালিবেলা আমহারার নর্থ ওলো এলাকায় অবস্থিত। তিগ্রাই বাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানকার বাসিন্দারা পালাতে শুরু করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের এক জন সেইফু জানান, তিনি বৃহস্পতিবার কয়েক শ সশস্ত্র ব্যক্তিকে শহরটির ভেতর হাঁটতে ও তিগ্রাইয়ের ভাষায় কথা বলতে দেখেছেন। লালিবেলার বাসিন্দারা আমহারিক ভাষায় কথা বলে। সেইফু বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যে পোশাক দেখেছি আমরা এদের উর্দি সেরকম নয়।’
তিনি জানান, বুধবার রাতে আমহারা অঞ্চলের বাহিনী স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমহারার বাহিনী ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর মিত্র। ‘আমরা তাদের (আমহারা বাহিনী) থাকতে বলেছি। নিদেনপক্ষে তাদের কালাশনিকভ আমাদের দিতে বলেছি। কিন্তু তারা ঐ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স, বেশ কয়েকটি ট্রাক ও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
দাউইত নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিগ্রাই বাহিনী আসছে—এ খবর পেয়েই তিনি লালিবেলা ছেড়ে পালান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় শ দুয়েক লোক হেঁটে শহর ছাড়ি।’
