আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
আশুগঞ্জে পর্যাপ্ত ধানের আমদানি থাকলেও দাম চড়া। ধানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দামও। এই উচ্চ মূল্যে ধান কিনে চালে রূপান্তর করে লাভবান হতে পারছেন না চাতালকল মালিকরা। এতে উপজেলার চাতালকলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে ধান ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের উত্পাদিত ধান দিয়ে চলে আশুগঞ্জ উপজেলার অর্ধসহস্রাধিক চাতালকল। মোকামে গিয়ে ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মণ মোটা দানা ৯৬০ থেকে ১ হাজার টাকা, বিআর-২৯ ধান ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বিআর-২৮ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৬০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রতি মণ ধান বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আশুগঞ্জ চাতালকল মালিক মো. কামরুজ্জামান রিপন জানান, প্রতি মণ ধানে ২৩ থেকে ২৪ কেজির বেশি চাল হচ্ছে না। ১ হাজার টাকায় প্রতি মণ ধান কিনে চালে রূপান্তর করে সরকারি খাদ্য গুদামে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ হয় প্রতি কেজিতে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। কিন্তু সরকার প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৪০ টাকা। এভাবে ধানের দাম বাড়তে থাকলে চাতালকলগুলো চালু রাখা সম্ভব হবে না।
জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, মিলমালিকরা বর্তমান দামে ধান কিনে চালের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন। গুদামে পুরোপুরি চাল সরবরাহ দিতে গেলে চাতালকল মালিকদের প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। এছাড়া চাল আমদানি বন্ধ এবং সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৮০ টাকা দর নির্ধারণ করে সারা দেশে অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ করায় ধান ও চালের বাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাইনুর খাইর জানান, জেলার মোট বরাদ্দের অধিকাংশ চালই আশুগঞ্জ থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে। সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় মিলমালিকরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে চাহিদা মোতাবেক চাল সরবরাহ করছেন না। মিলমালিকদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বাকি ১২ হাজার টন চাল সরবরাহ করার জন্য মাইকিংক করে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. বাবুল আহম্মেদ জানান, গত এক মাস যাবত বাজারের ধান ও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এরপর মিলমালিকরা প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার দুই-তৃতীয়াংশ চাল সরবরাহ করেছেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের সময় বাড়িয়ে দিলে চুক্তি অনুযায়ী বাকি চালগুলো সরবরাহের চেষ্টা করব।
