তারাগঞ্জে তিন বছরেও সংস্কার হয়নি ভাঙা সেতু

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২১:২১

তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

তারাগঞ্জে তিন বছর যাবত্ খারুভাজ নদীর ওপরের সেতু ভেঙে পড়ে আছে। অথচ সেতুটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে ঐ সেতুর আশপাশের গ্রামের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ যেমন যানবাহনে ঐ সেতু সংশ্লিষ্ট সড়ক পার হয়ে চলাচল করতে পারছেন না, তেমনি কৃষকও তাদের উত্পাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ অনেক দূরের পথ ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।

সেতুটি তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের খারুভাজ নদীর নেকিরহাটে নির্মিত। এটি গত ২০১৮ সালের বন্যায় ভেঙে পড়ে। এতে ঐ সেতুর ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল ১০টি গ্রামের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের নেকিরহাটের কাছে সেতুটির অবস্থান। আগে ঐ ইউনিয়নের মানুষ ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে তারাগঞ্জ সদর হয়ে রংপুর শহরে যাতায়াত করত। ঐ ইউনিয়নের সঙ্গে রংপুর শহরের যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৯৬ সালে খারুভাজ নদীর ওপর নেকিরহাটের কাছে সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা পরিষদ। ফলে সেতুর ওপর দিয়ে রংপুর শহর যেতে পথের দূরত্ব অনেক কমে যাতায়াত সহজ হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর এক দিকের অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। অন্যদিকের পিলারগুলোতে ফাটল ধরেছে। ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। নেকিরহাট গ্রামের কৃষক তাহের, কাজল, দুলাল, আলতাফসহ কয়েক জন জানান, এমনিতে আমাদের আবাদ করা ফসলের দাম নেই। তার ওপর হাটবাজারে নিয়ে ফসল বিক্রিরও কোনো বুদ্ধি নেই। ব্রিজ ভেঙে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় আমরা পড়েছি চরম দুর্ভোগে। হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বাবুল জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়নের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

এলজিইডির তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, ঐ সেতুটির কথা আমার জানা আছে। ঐ স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ না আসায় সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পেলেই ঐ স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।