আতঙ্কে মানুষ
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি
উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী শহরসংলগ্ন বিষখালী নদীর পাড়ের শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পড়ছে। লঘুচাপের প্রভাবে গত চার দিনের ভারী বর্ষণ ও বিষখালী নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় ক্রমশ তা আরো তীব্র হচ্ছে। এতে সম্পূর্ণ বাঁধটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাঁধ এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালের ২০ মে আইলা, ২০১৩ সালের ১০ মে মহাসেন, ২০১৯ সালের ৪ মে ফণী, ২০২০ সালের ২০ মে আম্ফান এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ২৫ মে ইয়াসসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। এতে বারবার শহর রক্ষা বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৫ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপিসহ একাধিকবার মন্ত্রীরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে শহর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বস্ত করেন। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শওকত হাচানুর রহমান জাতীয় সংসদে পাউবোর শহররক্ষা বাঁধ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া বাঁধের ব্লক রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একাধিকবার মানববন্ধন এবং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ এর তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্লক ধসে জোয়ারের লবণপানি ঢুকে গাছপালা, বিশেষ করে ফলদ বৃক্ষের পাতাগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ঐ জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না কৃষক। বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ এ বি এম গোলাম কবির বলেন, ‘নানা জটিলতায় বেতাগী শহররক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি আটকে ছিল। ইতিমধ্যে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছেন। আশা করি শিগিগরই এ প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন হবে। এ ব্যাপারে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, জেলায় চারটি ভাঙনকবলিত স্থানকে একটি প্রকল্পের আওতায় এনে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে গত জুন মাসে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বেতাগী শহর রক্ষা বাঁধটি রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে বাঁধের কাজ শুরু করব।
