এনামুল হক, খুলনা অফিস
৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের ইনারবার বা অভ্যন্তরীণ চ্যানেল ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই কাজ শেষ হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। গত ১৩ মার্চ থেকে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের প্রায় ১৯ কিলোমিটার নদীপথের ইনারবার (অভ্যন্তরীণ চ্যানেল) ড্রেজিং শুরু হয়। এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে। এই সময়ে ২১৬ দশমিক ৯ লাখ ঘনমিটার বালু ড্রেজিং করা হবে। চীনা কোম্পানি জেএইচসিইসি এবং সিসিইসিসি ঠিকাদার হিসেবে জয়েন্ট ভেঞ্চারে এই ড্রেজিং কাজ করছে। ইনারবার ড্রেজিংয়ের ফলে উত্তোলিত পলিমাটি ও বালু ফেলার জন্য ১ হাজার ৫০০ একর জমির দরকার হয়েছে।
সূত্র জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃতপ্রায় বন্দরে পরিণত হয়েছিল মোংলা বন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বন্দরের আউটার ও ইনারবার চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ঐ সময়ে চরম নাব্যসংকট দেখা দেওয়ায় জাহাজ ভিড়তে পারত না এ বন্দরে। মাসের পর মাস জাহাজ শূন্য হয়ে অচলাবস্থা ছিল বন্দর জুড়ে। বন্দরের আউটারবার (বহির্নোঙ্গর) ও ইনারবারে (অভ্যন্তরীণ) নাব্যসংকটের কারণে কনটেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন জাহাজ মোংলা বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় কনটেইনারাইজড মালামাল আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা নিরুত্সাহিত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতাসম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল হতে বন্দর জেটি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার নৌপথ ইনারবারে ২১৬.০৯ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে মোংলা বন্দরের নাব্যসংকট নিরসনসহ গতিধারা আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, ২০২০ সালে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার আউটারবার ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের ফলে আউটারবার দিয়ে বর্তমানে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসা শুরু হয়েছে। গত বছরের (২০২০) জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৯৭০টি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসেছে। ঐ বছর টার্গেট ছিল ৮৯০টি জাহাজের। সেখানে আরো ৮০টি জাহাজ বেশি এসেছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের ২৫ জুলাই পর্যন্ত বন্দরে এসেছে আরো ৬০টি জাহাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে গত ৭০ বছর মোংলা বন্দর সৃষ্টি হওয়ার পর এত বেশি জাহাজ এর আগে মোংলা বন্দরে আসেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক) ও ইনারবার ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক শেখ শওকত আলী জানান, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ইনারবার ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ হচ্ছে।
মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা ইত্তেফাককে বলেন, মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি। দেশের তিনটি বড় মেগা প্রকল্প রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র ও মেট্রোরেল প্রকল্পের সব ইকুইপমেন্ট এই বন্দর দিয়ে আনলোড হয়। এ বছর বন্দরে জাহাজ রেকর্ডসংখ্যক বৃদ্ধি পেয়েছে। মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান আরো বলেন, বন্দরকে আরো গতিশীল ও আধুনিক করতে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-এ কী হবে, ২০৪০-এ কী হবে এবং ২০৭০-এ কী হবে তারও একটি মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছি। একটি বন্দরকে এগিয়ে নিতে দরকার মাস্টারপ্ল্যান।
