সাধন সরকার
ধরুন, একটি সেতু বা কালভার্ট পার হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবে নদীটির নাম জানতে ইচ্ছে করবে। আশপাশের কাউকে নদীর নাম জিজ্ঞাসা করলেও হয়তো জানা গেল না। কেননা বেশিরভাগ নদ-নদী লাগোয়া বাস্তায় বা সংযোগ সড়কের দু’পাশে নদীর নামফলক নেই। বড় কয়েকটি নদ-নদী বাদে ছোট-মাঝারি নদ-নদীর ওপর সেতু বা কালভার্ট দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় অধিকাংশই ব্যক্তি কোন নদীর পার হচ্ছেন তা জানতে পারেন না! বইতে নদীর নাম জানা আর সরাসরি নদী দেখা ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে পৃথিবীর সববৃহত্ এই বদ্বীপে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। নদ-নদীর সীমা-পরিসীমা টানা বেশ কঠিনও বটে। একটি নদীর সঙ্গে আরেকটি নদীর সংযোগ থাকা স্বাভাবিক। একটি নদী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। যোগাযোগের স্বার্থে নদ-নদীর ওপর দিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য সেতু বা কালভার্ট সড়ক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, নদীর ওপর সংযোগ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় নদীর নাম জানা যায় না! নদীর নামফলক ছাড়া নদীর নাম কীভাবে জানা যাবে? বেড়াতে, শিক্ষাসফরে বা কোনো কাজে গেলে বহু নদীর দেখা মেলে। কিন্তু সেতুসংলগ্ন সড়কের দু’পাশে ‘নদীর নামফলক’ না থাকায় নদীর নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (নদ-নদীর নাম, দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, নদীটি কোন কোন জেলা-উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ইত্যাদি) জানা যায় না। এমনকি নিজ উপজেলায় বসবাস করলেও উপজেলা বা আশপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর নাম বলতে পারেন না অনেকে। নদী দেখার সঙ্গে সঙ্গে যদি নদীটির নাম না জানা যায় তাহলে নদীর প্রতি ভালোবাসা আসবে কোথা থেকে? নদীর নাম না জানলে নদীর দখল-দূষণে বা কোনো না কোনোভাবে ক্ষয়ক্ষতি হলে নদীটির তথ্য জানিয়ে নদীপ্রেমিক কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের নিকট কীভাবে অভিযোগ জানাবেন!
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীর সঙ্গে জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। নিস্তরঙ্গ নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িয়ে আছে। নদীর নাম জানার স্বার্থে, নদীর প্রতি ভালোবাসা জাগানোর স্ব্বার্থে ও সর্বোপরি নদীকে বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদী লাগোয়া সংযোগ সড়কের দু’পাশে নদীর নামফলক খুবই দরকারি। অবশ্য হাতেগোনা কয়েকটি নদীর ওপর সংযোগ সড়কে ‘নদীর নামফলকে’র দেখা মেলে! নদীর ওপর সংযোগ সড়কের ৮০ ভাগ স্থানে নদীর নামফলক নেই। যেখানে যেখানে বা যত জায়গায় নদীর ওপর কালভার্ট বা সংযোগ সড়ক চলে গেছে সেসব সড়কের দু’পাশে সংশ্লিষ্ট নদী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি কিংবা সম্ভব না হলে শুধু নদীর নাম বড় করে লেখা সাইনবোর্ড তথা নদীর নামফলক থাকতে হবে। যেন নদী পার হওয়ার সময় নদীর নাম জানা যায়।
নদী জাতীয় সম্পদ। নদ-নদী সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে। নদীমাতৃক দেশে বাস করে, নদীর আশপাশে থেকে নদীর নাম জানতে না পারাটা খুব একটা সুখকর নয়! নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, নদ-নদী লাগোয়া সব সংযোগ সড়কের দু’পাশে ‘নদীর নামফলক’ স্থাপন করুন।
ঢাকা
