আবু সালেহ মোহাম্মদ সায়েম
করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। আগে বিশেষ করে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের থাকতে দেওয়া হতো না। কিন্তু এখন রোগী প্রতি একাধিক স্বজন পালাক্রমে হাসপাতালে থাকছেন। হাসপাতালের ভেতর থেকে বাইরে আসছেন, আবার ভেতরে ঢুকছেন। অনেক সময় রোগীর পাশ থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছেন বাড়িতে। তাদের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতাল বা করোনা ওয়ার্ডে ব্যবহূত মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভসসহ যাবতীয় সামগ্রীর সাহায্যেও ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। হাসপাতালের বর্জ্য হয়তো দূরে কোথাও ফেলে দেওয়া হয়, বর্জ্য তো ধ্বংস করা হয় না, তাই হাসপাতালের বর্জ্য থেকেও করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েই যায়। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় উত্স হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যেসব অ্যাম্বুলেন্স রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর আত্মীয়স্বজনদের আনা-নেওয়া করছে, সেগুলো রোগী আনার আগে বা পরে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয় না। এসব অ্যাম্বুলেন্স থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। তৃতীয় ও চতুর্থ উত্স হচ্ছে টিকাদান কেন্দ্র ও কোভিড পরীক্ষা কেন্দ্র। যাঁরা টিকাদান কেন্দ্রে টিকা নিতে যাচ্ছেন বা কোভিড পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। বস্তুত, করোনা ছড়িয়ে পড়ছে চক্রাকারে। হাসপাতাল থেকে রোগীর স্বজন, তাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্য, গাড়ির ড্রাইভার, কাজের লোক—এভাবে দোকান, বাজার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে করোনা।
হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, টিকাদান কেন্দ্র, কোভিড পরীক্ষা কেন্দ্র, রোগীদের স্বজনদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে করোনার বিস্তার ঠেকানো যাবে। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে ইনফেকশন কন্ট্রোল মেজার মানার প্রবণতা ছিল। এখন উলটোটা লক্ষ করা যাচ্ছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এক শতাংশেরও কম মানুষ নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করছেন। হাট-বাজারে ভিড়ের মধ্যে চলছে কেনাকাটা। সামাজিক দূরত্ব একেবারেই মানা হয় না। এর মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরী থেকে যাওয়া ব্যক্তিও অনায়াসে তাদের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছেন। করোনা আক্রান্ত অনেকে সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করে নমুনা পরীক্ষাও করান না। এসব কারণে গ্রামে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রকৃতপক্ষে, করোনা সংক্রমণের বর্তমান সংখ্যা ও হারের জন্য সর্বত্রই নিয়ম না মানার প্রবণতাই দায়ী। বর্তমানে সারা দেশে যে লকডাউন চলছে, সেটারও নিয়ম-নীতি উপেক্ষিত হচ্ছে। বলতে চাই, সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।
মহামারি রোধে গণসচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সচেতনতা এবং সর্তকতার অভাবে সরকার ঘোষিত সব ধরনের নির্দেশনা বিফলে যেতে পারে। করোনা প্রতিরোধ একটি বিজ্ঞানসম্মত বিষয়। এর সঙ্গে অলৌকিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কোনো অবকাশ নেই। যেহেতু করোনা ভাইরাসটি সারা বিশ্বেই নতুন এবং যার পরিবর্তনশীল গাঠনিক রূপে বিজ্ঞানীরাই নাজুক, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা এবং ইনফেকশন কন্ট্রোল মেজার মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা
