সিলেট বিভাগে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৬ জনের মৃত্যু হয় এই বিভাগে। এর মধ্যে সিলেটে ১৩ জন, হবিগঞ্জে দুই জন ও মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে ৭৭৭ জনের মৃত্যু হলো। সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শনাক্তের হার ৩৮.৫৪ ভাগ। সব মিলিয়ে এ বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২১৯ জনের। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৭৩ জন।
এদিকে সিলেট বিভাগে করোনার থাবা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের সবকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিট সংকট দেখা দেয়। আইসিইউ, অক্সিজেন সংকটের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা পাগলপারা হয়ে উঠেন। এমনকি চিকিত্সকরা পড়েন দুশ্চিন্তায়। চিকিত্সকসহ সংশ্লিষ্টরা আইসিইউ সংকটে দিশেহারা হয়ে উঠেন।
সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের প্রচেষ্টায় অবশেষে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৫০ শয্যার নতুন আইসোলেশন সেন্টার হতে যাচ্ছে। এর আগে দীর্ঘদিন থেকে সব রকমের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের অভাবে এতদিন আইসোলেশন সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছিল না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের ডিওর পরিপ্রেক্ষিতে অক্সিজেন লাইন স্থাপনের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্মত হওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র মতে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগের ১০তলা ভবনের ৪র্থ ও ৫ম তলা আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত। কেবলমাত্র সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের অপেক্ষায়। সাড়ে ৪০০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টারটি চালু হলে সিলেটে কোভিড চিকিত্সা অনেকটাই সহজ হবে।
সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপিকে ডিও লেটারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় অতিসম্প্রতি সিলেটেও করোনা মহামারি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৩য় তলা থেকে ১০ তলায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু ভবনটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজন করা হয়নি। বলেন, ভবনটির ৪র্থ ও ৫ম তলা করোনা আইসোলেশন সেন্টারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সাড়ে ৪০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু কেবলমাত্র সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজন না থাকায় আইসোলেশন সেন্টার চালু করা যাচ্ছে না। এই মহামারিকালে সিলেটের মানুষের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিতে ভবনটির ৪র্থ ও ৫ম তলায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ডিও লেটার পাওয়ার এক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযোজনের প্রকল্পটি অনুমোদন করে।
