চট্টগ্রামে করোনার ৯৩ ভাগই ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৭

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনকভাবে করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক মাসে জেলা ও নগরীতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট উচ্চ সংক্রমণশীল হওয়ায় কোনো পরিবারের একজন আক্রান্ত হলেই অন্যদের শরীরেও দ্রুত এই ভাইরাস ধরা পড়ছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) যৌথভাবে এ গবেষণা কার্যক্রম চালিয়েছে। এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন সিভাসুর প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তানভীর আহমদ নিজামী এবং বিসিএসআইআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সেলিম খান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোরশেদ হাসান সরকার।

গতকাল শুক্রবার সিভাসুর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সি ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৩০টি নমুনার ১৫টি সিটি করপোরেশন এলাকার এবং বাকি ১৫টি গ্রামাঞ্চলের। এর মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। ৩০টি নমুনায় সংগৃহীত ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করে বিসিএসআইআরের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিভাসু এর আগেও করোনা ভাইরাসের ২২টি নমুনার পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছিল।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে গ্রামাঞ্চলের চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আক্রান্তের হার বেশি ছিল। কিন্তু ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার গ্রামে ও শহরে সমানভাবে হয়েছে। ফলে গ্রামে আক্রান্ত ও মৃত্যু ক্রমশ বাড়ছে। ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়ায় বলে জুলাই মাসে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেন।

সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, এর আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলফা (ইউকে ভ্যারিয়েন্ট) ও বিটা (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি রিপোর্ট করা হয়েছিল। যদিও আলফা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি এখনো আছে। তবে তার শতকরা হার খুবই কম। প্রাপ্ত ফলাফল নির্দেশ করে—৩০টি নমুনার মধ্যে ২৮টিতেই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি নির্দেশ করে। অপর দুটি নমুনার মধ্যে একটিতে আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং অন্যটিতে ‘লাইনেজ এ’ শনাক্ত হয়েছে, যা ‘উহান’ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য সিভাসু অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কারো শরীরে তীব্র লক্ষণ আবার কারো মধ্যে মৃদু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে আমরা ভাইরাসের জিনোমের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, সেটি নিয়ে গবেষণা শুরু করি। আমরা চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে করোনা ভাইরাসের ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের তীব্র সংক্রমণের বিষয়টি দেখার পর চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে, চট্টগ্রামে গত এক মাসে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে সংক্রমিত।