কুমিল্লায় খালে-বিলে সড়কবিহীন চার সেতু!

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৪

কোথাও সড়কের অস্তিত্ব নেই, আবার কোথাও দেখা মেলে সরু সড়কের। আবার কোথায়ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ বা বিল (জলাশয়)। এমন খাল ও বিলের মধ্যে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে সেতু। এমন অন্তত চারটি সেতু শোভা পাচ্ছে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ও লুটেরচর ইউনিয়ন এলাকায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এসব সেতু বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। এতে সরকারের সোয়া কোটির অধিক টাকা গচ্চা গেছে। জনগণের কোনো কাজে আসছে না এসব সেতু। সড়ক না করে সেতু নির্মাণের নামে যোগসাজশে নয়-ছয় প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ করেন এলাকার লোকজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, জেলার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ঝিনঝিনি এলাকায় ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এবং একই ইউনিয়নের লুটেরচর এলাকায় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা ব্যয়ে একই দৈর্ঘ্যের আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল এ দুইটি সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে মেসার্স নূরজাহান এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আদিবা বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে ২০১৬ সালের ২৯ জুন ঐ উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের বারহাজারী এলাকায় এবং একই ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরো দুটি সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা করে দুইটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয় মোট ৬৫ লাখ ৫ হাজার ৩০৬ টাকা এবং এ দুইটি সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন মেঘনা উপজেলার তত্কালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানার তত্ত্বাবধানে পৃথক চারটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হয় মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৯ টাকা। ঐ সময়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মাটি ভরাটের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারদেরকে বিল পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মেঘনা উপজেলার তত্কালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলায় কর্মরত) আইমিন সুলতানার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিটি ছিল, তাই এর দায় আমার একার নয়। আমি এখন সেখানে নেই, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্যও নেই।

মেঘনা উপজেলার বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, এখানে আমার যোগদানের অনেক আগে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। এসব সেতু ব্যবহার উপযোগী করতে সড়ক নির্মাণ ও মাটি ভরাটে অনেক টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক বলেন, যে চারটি সেতুর কথা বলা হচ্ছে এগুলো জনগণের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের আগে জনগণের উপকারের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে তখন হয়তো এভাবে এসব সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হতো না। এসব সেতু ব্যবহার উপযোগী করতে অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।