অলিম্পিয়ান স্বামী-স্ত্রীর ঘরে স্বর্ণের ছড়াছড়ি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৭

জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন গ্রেট বৃটেনের নারী সাইক্লিস্ট লরা কেনি। জন্মের সময় তার জীবন ছিল সংকটাপন্ন। ফুসফুস ছিল ত্রুটিপূর্ণ। পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা, আশপাশের পরিবারগুলো নবজাতক লা কেনিকে দেখতে আসেন। তাকে বারবার ছুটে যেতে হচ্ছে হাসপাতালে। শেষে একটা উপায় বেরিয়ে এলো, ডাক্তার উপদেশ দিলেন বাবা মাকে। একটু বড় হলেই যেন লরা কেনিকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হয়। এতে মেয়েটার শক্তি বাড়বে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাকে দেওয়া হয়েছিল সুইমিংপুলে, পরে সাইক্লিং করতে দেওয়া হয়। কে জানত? সংকটাপন্ন জীবন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা সেই মেয়েটি অলিম্পিক গেমসে আলোড়ন তুলবেন। এই নারী গ্রেট বৃটেনের প্রথম বৃটিশ নারী অ্যাথলেট, যিনি চারটি স্বর্ণ জয় করেছেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দুটি এবং রিও অলিম্পিকে দুটি স্বর্ণ জয় করেন আর এবার টোকিও অলিম্পিক গেমস সাইক্লিং ট্র্যাক থেকে আরো একটি স্বর্ণ জয় করেন লরা কেনি। অলিম্পিক গেমসে লরা কেনির এখন পাঁচটি স্বর্ণ পদক। ২৯ বছর বয়সি লরা কেনির ঘর আরো বেশি আলোকিত করেছেন তার স্বামী ট্র্যাক সাইক্লিস্ট জ্যাসন কেনি। তিনিও অলিম্পিয়ান। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দুটি স্বর্ণ জয় করেন এবং রিও অলিম্পিকে তিনটি স্বর্ণ জয় করেন। স্বামীর পাঁচ স্বর্ণের পদকের সঙ্গে স্ত্রী লরা কেনির পাঁচ স্বর্ণ সব মিলিয়ে এক ছাদের নিচে অলিম্পিকের ১০ স্বর্ণ। এক ঘরে দুই অলিম্পিয়ান স্বর্ণের ছড়াছড়ি। লরা কেনি সাঁতারু হতে গিয়েছিলেন। লরার ওজন বেড়ে যাওয়ায় সাইক্লিং করতেন। ওজন কমাতে গিয়ে সাইক্লিংটা এতই বেশি ভালো লেগে যায় যে, মনপ্রাণ দিয়ে সাইক্লিংয়ে নাম লেখান। লরা কেনির বড় বোন এমা ছিলেন রোড সাইক্লিস্ট, ছোট বোন লার সঙ্গে ২০১৪ সালে খেলে অবসরে যান।