স্মরণে রবীন্দ্রনাথ

‘শ্রাবণের পবনে আকুল বিষণ্ন সন্ধ্যায়’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০০:৫২

গানের সুরে, কবিতার পঙক্তিমালায় গতকাল শুক্রবার পালিত হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী। মহামারীর দুঃসময়ে এসেছে এবারের বাইশে শ্রাবণ। সে কারণে বিভিন্ন সংগঠন ভাচুর্য়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনলাইনে ‘শ্রাবণের আমন্ত্রণে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট। একইভাবে বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনাসভা। 

শ্রাবণের আমন্ত্রণে আয়োজনটি ছায়ানটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে সম্প্রচারিত হয়। মাকছুরা আখতার অন্তরার গানের সুরে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিনি গেয়ে শোনান ‘‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ শীর্ষক রবীন্দ্রসঙ্গীত। সৈকত মুখার্জি শোনান ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’। সাজিয়া হোসেন শুনিয়েছেন ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথযামিনী রে’ গানটি। বিক্রম দাস গেয়েছেন ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে’। শান্তিনিকেতন প্রবন্ধের অংশবিশেষ পাঠ করেছেন জয়ন্ত রায়। ‘ধরনীর গগনের মিলনের ছন্দে’ ছন্দে গানের সুরে বৃন্দ নৃত্য পরিবেশন করেন এলভিস মোস্তফা, ফুলেশ্বরী পারমিতা পুষ্প, নোশিন আনজুম ও দীপান্বিতা আনজুম। অসীম দত্ত গেয়েছেন ‘আমার প্রিয়ার ছায়া’ শিরোনামের গান। সাদিয়া সুলতানা গেয়ে শোনান ‘কোন্্ পুরাতন প্রাণের টানে’। আব্দুস সাত্তার গেয়েছেন ‘শ্রাবণের পবনে আকুল বিষণ্ন সন্ধ্যায়’। ‘আজ শ্রাবণের পূর্ণিমাতে’ শিরোনামের গান শুনিয়েছেন অভয়া দত্ত। ‘সোনার তরী’ কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ। এটিএম জাহাঙ্গীর গেয়েছেন ‘সঘন রাত্রি ঝরিছে শ্রাবণধারা’ শীর্ষক সঙ্গীত। মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা গেয়েছেন ‘যেতে দাও যেতে দাও গেল যারা’। সুকান্ত চক্রবর্তী পরিবেশিত গানের শিরোনাম ছিল ‘আমি তখন চিলে মগন গহন’। ‘যায় দিন, শ্রাবণ দিন যায়’ গানের সুরে যুগল নৃত্য পরিবেশন করেন রিতু পাল ও সুপর্ণ লিমা।

বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুক পেজে আলাচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ‘পূর্ববঙ্গ থেকে বাংলাদেশ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল ও অধ্যাপক অনীক মাহমুদ। ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ শীর্ষক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন অদিতি মহসিন। রবীন্দ্রকবিতা ‘অনুগ্রহ’ থেকে আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী রুবীনা আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

সেলিনা হোসেন বলেন, পূর্ববঙ্গ থেকে বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এ দুজন মহান মানুষের সামনে ছিল স্বপ্নের ভূমি। তাঁরা পূর্ববঙ্গ আলোকিত করে নিজেদের প্রজ্ঞা ও জ্ঞান ছড়িয়েছেন বাঙালির মানব সচেতনতায়। উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালির জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্বে। এই দু’জনের মাধ্যমেই মূলত বাংলা-বাঙালির দিগদর্শন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের মানচিত্রে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে পাকিস্তানি শাসকচক্রের চরম বৈরিতার মধ্যেও আমরা বাঙালিত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছি। আমাদের এ সংগ্রামে প্রেরণা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। কারণ তিনি রবীন্দ্রনাথকে তাঁর জীবনচেতনার সঙ্গী করেছেন আর রবীন্দভুবন ক্রমশ আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করেছে। তাই আজও একটি মাঙ্গলিক সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরপ্রেরণার অনন্ত উত্স।