বৃক্ষ : সুইতলা-মল্লি¬কপুরের বটগাছ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ১৯:৪২

 

কালীগঞ্জ শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলি মৌজায় গাছটির অবস্থান, যা ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। এটি একটি বটগাছ। বর্তমানে বটগাছটি ৫২টি বটগাছে রূপ নিয়েছে। সুইতলা-মল্লিকপুরের বটগাছ নামে পরিচিত। ৩০০ বছরের পুরনো। রাস্তার ধারে ডালপাতায় পরিপূর্ণ এই বটগাছ পথচারীদের বিশ্রামস্থল। বটগাছটি একের পর এক ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট উঁচু ঝুরি নামিয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে চার হেক্টর জমিজুড়ে গাছটির অবস্থান।

বেথুলি গ্রাম বহু আগে থেকে কুমার সম্প্রদায়ের বসতির জন্য বিখ্যাত। সেই সময় কুমার সম্প্রদায়ের লোকেরা পাতকুয়া ব্যবহার করত, সেন বংশীয় কুমার পরিবারের কোনো একজনের পাত কুয়োর ওপর একদিন একটি গাছ জন্মে। এটা অনেক আগের কথা; কারো কারো মতে প্রায় ৩০০ বছর আগের গল্প, আবার কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়ে ৫০০ বছর বলে থাকেন।

১৯৯৮ সালের দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তত্কালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সুশেন চন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় সেখানে একটি ফুলের বাগান তৈরি করা হয়। বটগাছের চারপাশ ঘিরে প্রাচীর নির্মাণের ব্যবস্থাও করেন তিনি।

দর্শনার্থীরা আসেন গাছটি দেখতে। তাই ১৯৯০ সালে বটগাছের পাশেই একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়। এজন্য মল্লি­কপুরের মৃত জহর আলীর স্ত্রী মোছা ওরফে কুন্টি বিবি ৩২ শতক জমি জেলা পরিষদের নামে দানপত্র লিখে দেন। তবে নানা জটিলতায় আজো সে রেস্ট হাউজটি চালু হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণ না করায় রেস্ট হাউজের জানালা-দরজাও চুরি হয়ে গেছে। বটগাছটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেউ নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একজন স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থেকে বন বিভাগ প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বটগাছটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় ২০০৯ সালে। গাছটির আয়তন বৃদ্ধির জন্য নতুন করে দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাখির কলরব, ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়।

শাপলা খাতুন