তালায় তরমুজ চাষ বাড়ছে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২১:২৫

গাজী জাহিদুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

তালায় মধুমালা ও ব্লাক বেরি জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক। উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাতি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম তাদের মধ্যে এক জন। একইভাবে ব্লাক বেরি, মধুমালা ও ইয়োলো বার্ড প্রজাতির তরমুজ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন উপজেলার নগরঘাটা, মিঠাবাড়ী, সেনেরগাতি ও আলিপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন, রেজাউল মোল্যা, আছাদুর রহমান, মুকুল হোসেনসহ অনেকেই।

তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাতি গ্রামের আনছার আলীর পুত্র কৃষক মো. আবুল কালামের খেতে সবুজ কচি লতাপাতার মধ্যে ঝুলে আছে হলুদ রঙের ছোট-বড় অসংখ্য তরমুজ।  তরমুজগুলো যাতে বোঁটা থেকে ছিঁড়ে না যায় সেজন্য সেগুলোকে বিভিন্ন রঙের জালিব্যাগের মধ্যে রেখে মাচার সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

চাষি মো. আবুল কালাম বলেন, উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষি কর্মকর্তা নয়ন হোসেন তাকে প্রথম এ তরমুজ চাষে উত্সাহিত করেছেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও খোঁজখবর নেন এবং নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, প্রতি ২০ শতাংশে এ তরমুজ উত্পাদনে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুকূল পরিবেশ ও সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আর কয়েক দিন পরই তরমুজ বিক্রি করে তিনি মোট বিনিয়োগের প্রায় চার গুণ লাভ করতে পারবেন।

উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন হোসেন জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতা এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষি ইউনিটের আওতায় সাতক্ষীরা জেলায় সর্বপ্রথম এই তরমুজ চাষ করা হয়। বিগত তিন বছর ধরে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ হচ্ছে তালা উপজেলার নগরঘাটা, মিঠাবাড়ী, সেনেরগাতি ও আলিপুর গ্রামের প্রায় ছয় বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, কচি ডগা থেকে লতা বেড়ে ওঠা পর্যন্ত কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই সেক্স ফেরোমিন পদ্ধতিতে বালাই দমন করা হয়। রোপণ থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৫৫ থেকে ৬০ দিন লাগতে পারে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে প্রচুর লাভের সম্ভাবনা থাকায় এটি চাষের জন্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা যোগানোসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের প্রায় দুই হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা হয়েছে।