ঝিনাইদহে কৃষি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২১:২৬

চড়া মজুরি

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে করোনা সংক্রমণের সময়েও কৃষি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। তাই তাদের দৈনিক মজুরিও বেড়েছে। কেউ দৈনিক ৮০০ টাকা, আবার কেউ দৈনিক হাজার টাকা আয় করছেন। এদিকে শৈলকুপা উপজেলায় মজুরি বেশি হলেও মহেশপুরে তুলনামূলক কম পাচ্ছেন শ্রমিকরা। জেলায় এখন পাট কাটা, পাট ধোয়া ও রোপা আমন চাষের ভরা মৌসুম চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আর রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর। এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাট ধোয়ার ধুম চলছে। সে সঙ্গে ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। সে কারণে কৃষি শ্রমিকদের চাহিদা অনেক। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের চাষি মো. আকমল হোসেন জানান, ধানের চারা লাগানো শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। সে সঙ্গে তিন বার খাবার দিতে হয়। পাট কাটা ও পাট ধোয়া শ্রমিকদের মজুরিও একই রকম। অপরদিকে চুক্তিতে এক আঁটি পাট কাটতে তিন টাকা, জাগ দিতে চার টাকা ও ধুয়ে দিতে চার টাকা করে মজুরি নিচ্ছেন তারা।

শৈলকুপা উপজেলায় পাঠানপাড়া গ্রামে পাট ধোয়ার কাজে নিয়োজিত কিশোর শ্রমিক রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ২৫০ আঁটি পাট ধুয়ে ১ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তার সঙ্গে কর্মরত বৃদ্ধ শ্রমিক আকুল ইসলাম বলেন, দৈনিক ২০০ আঁটি পাট ধুয়ে ৮০০ টাকা পাই। মহিষাডাঙ্গা গ্রামের কৃষি শ্রমিক জীবন কুমার বলেন, পাট ধুয়ে আমার দৈনিক ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের চাষি রহুল আমিন ও আব্দুল জলিল জানান, তাদের এলাকায় সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি নিচ্ছেন। পাট কাটা ও ধোয়া চুক্তি ভিত্তিতে করছেন। তাতে তারা দৈনিক হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তবে মহেশপুর উপজেলায় মজুরি কম। দৈনিক ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা বলে রাখালভোগ গ্রামের চাষি মো. সেলিম জানান। কিন্তু চুক্তিতে কাজ করে তারা ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, এক সঙ্গে কৃষি শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুরি বেড়েছে। অনেকে পাট কেটে রোপা আমন চাষ করবেন। তাই তাড়াতাড়ি বেশি মজুরি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। পাট কাটা ও ধান লাগানো শেষ হলে মজুরি কমে যাবে।