ঝুঁকি নিয়ে তিন ইউনিয়নের মানুষের পারাপার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২১:২৭

চাওড়া নদীতে ব্রিজের ওপর সাঁকো

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি

আমড়াগাছিয়া বাজারসংলগ্ন ব্রিজে বাঁশের সাঁকো। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাওড়া, কুকুয়া ও গুলিশাখালী—এই তিন ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করছে। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ আমড়াগাছিয়া বাজারসংলগ্ন চাওড়া নদীতে আয়রণ ব্রিজ নির্মাণ করে। নির্মাণের মাত্র ১০ বছরের মাথায় ২০১৬ সালে ব্রিজটির মাঝখানের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে চাওড়া, কুকুয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে যায়। তাত্ক্ষণিক ঐ ব্রিজের ভাঙা অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ মেরামত করে দিলেও ব্রিজ দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু নিষেধ উপক্ষো করে ট্রাক ও ট্রলি চলাচল অব্যাহত থাকে। এতে ব্রিজটি আরো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। গত বছরের ১০ জুন ইটবোঝাই ট্রলি পারাপারের সময় ব্রিজের মাঝের অংশ ভেঙে ট্রলিটি নদীতে পড়ে যায়। এতে দুর্ভোগে ঐ তিন ইউনিয়নের মানুষ। মানুষ ছাড়াও ব্রিজটি পার হয়ে আমড়াগাছিয়া বাজার, গোজখালী বাজার, গুলিশাখালী বাজার, কলাগাছিয়া বাজার ও আমতলী উপজেলা শহরে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। এ ছাড়া খেকুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাইনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোজখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সাতটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে। এটি ভেঙে পড়ায় এলাকার কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে বলইে চলে। ৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে খেকুয়ানী ও গোজখালী ব্রিজ পার হয়ে মানুষ ও কৃষিপণ্য নিয়ে উপজেল শহরে যেতে হয়।  নিরুপায় হয়ে গত এক বছর ধরে ঐ ব্রিজের ওপর স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ। এলাকাবাসী দ্রুত ঐ স্থানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। আমড়াগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বাদল সরদার বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে ব্রিজটি দুবার ভেঙে পড়েছে। ভাঙা ব্রিজে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কৃষিপণ্য বাজারে আনতে সমস্যা হচ্ছে।’ ব্রিজ-সংলগ্ন বাসিন্দা অটোচালক মো. মজিদ আকন বলেন, ‘ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে এত বড় ব্রিজ পারাপার খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।’

মোটরসাইকেলচালক রাসেল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কার না করায় আট কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানাই।’ গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘ব্রিজটিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনটি ইউনিয়নের মানুষ পারাপার হচ্ছে। ঐ স্থানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি।’

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আল মামুন বলেন, ‘ঐখানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।’