মহামারি ও এলডিসি উত্তরণে সহায়ক ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন খুবই জরুরি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২১:৩১

ঢাকা চেম্বারের ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নতি করতে হবে। বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে হবে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুযোগ তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি কোভিড-১৯ মহামারি ও এলডিসি উত্তর সময়ের জন্য সহায়ক ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন খুবই জরুরি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা একথা বলেন। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির ফলে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি গত ৬ মাসে মোটামুটি সঠিক পথেই পরিচালিত হচ্ছে। মাহামারির কারণে দেশের জিপিডি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৩৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার হতে ৩৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, দারিদ্র্যের হার ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারই বিষয়টিকে আমাদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর পাশাপাশি করের হার বৃদ্ধি করতে হলে, দেশের শুল্ক ও ভ্যাট আহরণ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অটোমেশন খুবই জরুরি। তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির কারণে আমাদের সিএমএসএমই খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখাতের উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা সহায়তা পাওয়া নিশ্চিতকরণ, সহায়ক নীতি সহায়তা প্রদান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং ঋণ প্রদানের সময়সীমা অন্তত তিন বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্নের আহ্বান জানান তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ একান্ত অপরিহার্য। বর্তমান সরকার অর্থনীতির পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছে। তিনি বলেন, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য নীতিতে সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণের ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারিখাতের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বিবিএসের তথ্য মতে, করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, তবে ২০২১ সালে এই হার ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন এবং বিশেষ করে জিডিপি করের অবদান বৃদ্ধি এবং পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ যথাক্রমে নেপাল ও ভিয়েতনামকে অনুসরণ করে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে হালনাগাদ তথ্যের অপর্যাপ্ততার কারণে নীতিমালা প্রণয়নে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তা নিরসনে তিনি অর্থনীতির সকল স্তরের সমন্বিত তথ্য প্রাপ্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, করোনা মাহামারি মোকাবিলায় লকডাউন আরোপের ফলে সমাজের অনেক মানুষ নতুনভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসতে পারে, তা মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে কী করে পৌঁছানো যায় তার প্রতি আরো যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, পণ্য রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিসহ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোর দিতে হবে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ প্রমুখ ওয়েবিনারের নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।